মলয় দে নদীয়া:-বিগত তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শান্তিপুর ব্রাহ্মসমাজের ১৬১ তম বাৎসরিক অনুষ্ঠান। চলছে অংকন, সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, নাট্যাভিনয়, বস্তু বিতরণ, ব্রহ্মোপাসনা, বক্তৃতা সহ নানাবিধ অনুষ্ঠান।
প্রসঙ্গত শান্তিপুরের ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষেত্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। সেই সময় বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীও শান্তিপুর ব্রাহ্ম সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।
ব্রাহ্মসমাজ বা ব্রাহ্মসভা উনবিংশ শতাব্দীতে স্থাপিত এক সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন যা বাংলার পূনর্জাগরণের পুরোধা হিসেবে পরিচিত।
ব্রাহ্ম সমাজের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার, মূর্তিপূজা ও সামাজিক অবিচার দূর করে একেশ্বরবাদ ও যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনার প্রচার করা এবং সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি উন্নত সমাজ গঠন করা।
শান্তিপুর ব্রাহ্মসমাজ এর বর্তমান প্রধান তপব্রত ব্রহ্মচারী জানান, শান্তিপুরেও ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার পর, সেইসময় কালের কয়েকজন অগ্রণী চিন্তাভাবনার যুবক ব্রাহ্ম সমাজের সাথে যুক্ত হয়ে শান্তিপুরের সমাজ সংস্কারে বড়ো ভূমিকা নেন। অনাথাশ্রম, বিদ্যালয় পরিচালনা, সাহিত্যসেবার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। শান্তিপুরের শিক্ষার প্রসারে প্রশংসনীয় কাজ করেছে ব্রাহ্মসমাজ।
শ্রমজীবী ছাত্রদের জন্য নৈশ বিদ্যালয় পরিচালনা, বর্তমান শান্তিপুরের বেশ কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শুরুটা হয়েছিল ব্রাহ্ম সমাজের হাত ধরেই। এখনো বিনা খরচে কোচিং সেন্টার, মেয়েদের সেলাই শেখানো, সঙ্গীত শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।