মলয় দে নদীয়া:-ভারতবর্ষের ১০ টি প্রদেশের ৩৫টি জনজাতি গোষ্ঠীর প্রায় আড়াই হাজার ভক্তের সমন্বয়ে পালিত হয় নবমতম ট্রাইবেল কনভেনশনের। মূলত পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষদের সমাজের সামনের সারিতে আনার লক্ষ্য নিয়ে এই অনুষ্ঠান নদীয়ার নবদ্বীপ মায়াপুর ইসকন কর্তৃপক্ষের। ২১ তারিখ থেকে শুরু হয় এই কর্মসূচির। ২১- ২৩ এই তিন দিন চলে এই অনুষ্ঠান। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন জনজাতি রয়েছে যারা বর্তমান সমাজ থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে। মূলত তাদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ঠিকভাবে শিক্ষার আলো প্রবেশ করতে পারেনি। সাংস্কৃতিক দিক থেকেও তারা অনেকটা পিছিয়ে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন থেকেও তারা বঞ্চিত। বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে শুরু করে যাতায়াত ব্যবস্থা থেকেও তারা বঞ্চিত হয়ে রয়েছে। মূলত সেই সমস্ত জনজাতির কথা মাথায় রেখে তাদেরকে শিক্ষার আলো এবং বিভিন্ন পরিষেবা যাতে তারা পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করে ইসকনের তরফে।
নদীয়ার নবদ্বীপ মায়াপুর ইসকনে ভারতবর্ষের প্রায় বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর প্রায় আড়াই হাজার ভক্ত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। একইভাবে শেষ দিনের কর্মসূচিতে মায়াপুর ইসকনে পদার্পণ করেন ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বর্তমান তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল বিষ্ণুদেব ভার্মা, তিনি এই কর্মসূচিতে যোগদান দিয়ে বলেন, তিনিও একজন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ, মায়াপুর ইসকন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এ বিষয়ে মায়াপুর ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, ইসকন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জনজাতিদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার। এই প্রথম নয় পরপর নয় বছর ধরে এই লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন চলছে। শ্রীচৈতন্যদেব যেভাবে অচন্ডালে হরিনাম বিতরণ করেছিলেন, প্রেম ধর্ম বিতরণ করেছিলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষ সমাজের অংশ সেই শ্রীচৈতন্যদেবের আদর্শকে সামনে রেখে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জনজাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সংস্কৃতি এবং পরিকাঠামো গত দিক থেকে উন্নয়ন করায় প্রধান লক্ষ্য এই কর্মসূচির। অন্যদিকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল কে পুষ্প স্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান ইসকনের কর্তৃপক্ষরা। রাজ্যপাল বিষ্ণুদেব ভার্মা ঘুরে দেখেন ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দির থেকে শুরু করে গোটা মায়াপুর ইসকন। এক প্রকার বলা যেতেই পারে ইসকনের এই অনুষ্ঠানে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল অংশগ্রহণ করায় নবরূপে সজ্জিত হয়ে উঠেছিল মায়াপুর ইসকন সহ চন্দ্রদয় মন্দির।