মলয় দে নদীয়া:-১৪ ই মার্চ ছিলো দোল উৎসব, তথা গৌড় পূর্ণিমা দেশ জুড়েই যা পালিত হয় যথাযথ মর্যাদায়।
হেরিটেজ শহর নবদ্বীপ ধামে এই উৎসবকে ঘিরে সুদুর অতীত থেকেই একটা আলাদা উন্মাদনা চোখে পরে আসছে,আর এর কারনটা সকলেই জানা, কারন এই নবদ্বীপ ধামেই জন্মেছিলেন স্বয়ং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। সে কারনে নবদ্বীপ শহরে বছর ভর কোন না কোন উৎসব অনুষ্ঠান হয়েই থাকে।
আর অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠানের থেকেও এই দোল উৎসবে নবদ্বীপে ঘটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহু বিদেশী পর্যটক তথা ভক্তের সমাগম।
নবদ্বীপ শহরে কমবেশি আনুমানিক পাঁচশত মঠ মন্দির আছে, আর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন কমবেশি প্রায় সকল মঠ মন্দিরেই হয়ে থাকে।
তবে ব্যাতিক্রমি ভাবে মহাপ্রভুর শুভ অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় শহরের মধ্যস্থলে থাকা নবদ্বীপ ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে।
নবদ্বীপ ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরে সভাপতি সুদীন গোস্বামী জানান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪০ তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে,
১৪ ই মার্চ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মহা অভিষেক, তিনি আরও জানান মা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর পিতা সনাতন মিশ্রের সেবীত রাজ রাজেশ্বরী যে শিলা আছে সেই শিলার ওপরে ষোড়শ প্রচারেই এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়,,
আর ১৫ ই মার্চ শনিবার অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমন মহাপ্রভুর শুভ অন্নপ্রাশন,।
তিনি বলেন এটি একটি ব্যাতিক্রমি ও বৈশিষ্ট্য পূর্ণ অনুষ্ঠান, কারন যেমন আমাদের পরিবারের কোন ছোট সন্তানের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ঠিক সেইভাবেই এই অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ঝিনুক বাটি,চুসি কাঠি থেকে শুরু করে সব থাকে, পাশাপাশি মন্দিরে নাট মন্দির জুড়ে ছাপ্পান্ন ভোগের আয়োজন করা হয়,ও অন্নকূট মহোৎসব এর মতোই অন্ন দিয়ে গিড়ি গোবর্ধন পর্বত তৈরী করা হয়, ছাপ্পান্ন ভোগের মধ্যে থাকে ছাপ্পান্ন রকমের ভাজা, সব্জি থেকে শুরু করে ছাপ্পান্ন রকমের চাটনিও, এছাড়াও নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট সহ বিভিন্ন এলাকার প্রসিদ্ধ ১০৮ রকমের মিষ্টি দিয়ে নিবেদন করা হয় ভোগে, এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের চকলেট, লজেন্স ও ছানাদিয়ে তৈরি একটি সুদৃশ্য কেক” ও নিবেদন করা এই অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের ভোগে,
এদিন এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরের নাট মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর, পুজো শেষে কয়েক হাজার ভক্ত দের মধ্যে বিতরণ করা হয় মহাপ্রসাদও।