মলয় দে নদীয়া:- আবারো নদীয়ার শান্তিপুরে সততার সেরা নিদর্শন টোটো চালকের, আনুমানিক প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দামের হারিয়ে যাওয়া সোনার অলংকার ফেরালেন প্রকৃত মালিকের হাতে।
অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এবং মন ভালো করা খবর শান্তিপুর সুত্রাগড় তাঁত কাপড়ের হাটের সামনে। সেখানকার টোটো চালক রমেশ সরকার বসবাস করেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর স্ট্রিটে। সংসারের খরচ যোগান সামান্য এই টোটো চালিয়ে। তার কথা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার তিনি এই এলাকাতেই রাস্তার উপর থেকে একটি সোনার ব্রেসলেট কুড়িয়ে পান, বিষয়টি অন্যান্য টোটো চালকদের জানান এমনকি সে বিষয়ে কোন দুর্বলতা যাতে না হয় তাই জন্য অন্য এক টোটচালক সহকর্মীর কাছে দিয়ে রাখেন কুড়িয়ে পাওয়া ঐ অলঙ্কার টি। অন্যান্য টোটো চালক সবাই প্রতীক্ষায় ছিলেন হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সন্ধানে, তারা বিশ্বাস করতেন নিশ্চয়ই মিলবে।
আজ রবিবার বেলা বারোটা নাগাদ সকলেই যখন হাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তখন শান্তিপুর ভদ্রকালীর বাসিন্দা পেশায় তাঁত শাড়ি কাপড়ের বিক্রেতা সৌমিত্র কুণ্ডু স্থানীয় দু একটি দোকানে হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন, যা শোনেন টোটো চালকরা। উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ওই ব্যক্তি র হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার ব্রেসলেট টি। এ প্রসঙ্গে ওই ব্রেসলেটের মালিক সৌমিত্র কুণ্ডু নিজেই জানেন আনুমানিক প্রায় ১৭ গ্রাম যার বাজারদর প্রায় ১ লক্ষ ৬০-৭০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে তা ফেরত পেয়ে তিনি খুবই খুশি এবং আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন অনেক সময় সমাজের নানা বিষয় নিয়ে আমরা কটুক্তি করে থাকি তবে সকলেই যে খারাপ নয় তার প্রমাণ মিলল আবারও। ওই ব্যক্তি যথেষ্ট অভাবী তিনি বিষয়টি প্রকাশ না করলে আমি কেন হয়তো অনেকের ক্ষেত্রেই জানা সম্ভব হতো না তবে নিজের দাদার মতন পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
সমস্ত অন্যান্য টোটো চালক রাও কোনরকম উপহার দিতে রাজি হননি তবে সকল টোটো চালকদের সাথে একসাথে পিকনিকের একটি কথা হয়েছে প্রাথমিকভাবে।
টোটো চালক রমেশ সরকার বলেন এর আগেও মোবাইল সোনার আংটি পেয়েছিলেন কিন্তু ফিরিয়ে দেওয়ার স্বাদই আলাদা। প্রত্যেকেরই কষ্ট অর্জিত অর্থ! তাই একবারের জন্যও মনে হয়নি নিজের কাছে রেখে দেওয়া উচিত।
স্থানীয় প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং হার্ট মালিক বিভাস ঘোষ জানান টোটো চালক থেকে শুরু করে মুটে মজদুর ভাই এমনকি আশেপাশের দোকানদার সকলেই এই সততা নিয়ে চলেন তাই আজ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তাঁত শাড়ির হাট শান্তিপুরে যথেষ্ট সুনামের সাথে চলে। ব্যক্তিগতভাবে এবং হাট কমিটির পক্ষ থেকে