মলয় দে নদীয়া :- বাবার বয়স ৪৫ মায়ের ৪০ কিন্তু মাত্র ১৩ বছর আগে জন্মানো ছেলের বয়স ১২৯! আর এই ১২৯ বছরের ছেলেকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মা।
নদীয়ার শান্তিপুর বাবলা এলাকার সাধন কর্মকার কর্মসূত্রে থাকেন বোম্বেতে। দুই পুত্র এবং স্ত্রীও থাকতেন সেখানেই। তাদের যাবতীয় প্রমাণপত্র সবই শান্তিপুরের। বাবলা গোবিন্দপুরে শ্বশুর বাড়ির ভিটেতে থাকা ছোট্ট একটি ভাঙ্গা ঘরে গত বছরের, মার্চ মাসে এসে পৌঁছান সাধন বাবুর স্ত্রী শ্রাবণী কর্মকার। উদ্দেশ্য ছিলো, তার নিজের নামে আধার কার্ডে শর্বরী কর্মকার নাম পাল্টাতে, ছোট ছেলে সুব্রত নাম ভুল করে সুকান্ত করে দেওয়া পাল্টাতে, সাথে স্বামীর রেশন কার্ডে ঠিকানার ভ্রম সংশোধন করাতে।
স্বল্প রোজগারের সাধন বাবুর সাথে থাকা দুই ছেলে নিয়ে বোম্বেতে সংসার খরচ, অন্যদিকে স্ত্রী শ্রাবণী দেবীর গোবিন্দপুরে থাকার খরচ। রীতিমতো দশটা পাঁচটায় ডিউটি করার মতো, সপ্তাহে বেশিরভাগ দিনই বিডিও অফিস , রেশন দপ্তর, এ- অফিস, ও -অফিস গিয়ে থাকেন।
তবে সেই কাজ মিটতে না মিটতেই, সদ্য আবেদন করা বড় ছেলের রেশন কার্ড নিয়ে আবারও বিভ্রান্তিতে। বয়স দেখলে চোখের চড়ক গাছ হবে, আপনারও। ২০০৯ সালে জন্মগ্রহণ করা ছেলের রেশন কার্ডের ডেট অফ বার্থ হিসাবে লেখা হয়েছে ১৯০০ সাল। অর্থাৎ ১৩ বছর আগে জন্মানো ছেলের বয়স কিনা ১২৯ বছর! আজ এই কাগজ, কাল সেই কাগজ, অফিস সে অফিস ঘুরতে ঘুরতে কেটে গেছে আরও চারটা মাস। অর্থাৎ পরিবারের আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড সংক্রান্ত ভ্রম সংশোধন করতে, প্রায় বছরখানেক ধরে স্বামী পুত্রদের ছেড়ে একাকী বসবাস শ্রাবণী দেবীর। তিনি বলেন, যেকোনো কিছু আবেদনের সাথেই একাধিক প্রমাণপত্র দেওয়া হয়। তবুও তাদের কি কারণে যে ভুল হয়, তা জানা নেই। প্রতিবেশীরা বলেন এ সমস্যা তাদেরও, কাউন্টারের ওপাশে কম্পিউটার নিয়ে থাকা মানুষটিও বোধ হয় রক্ত মাংসের নয়! কিছু দেখাশোনার আগেই , কিবোর্ডের উপর ঝড় তুলেই বলেন, পরের জন। সেখানে তিনি যে কি লিখলেন, তা একমাত্র জানেন তিনিই। কিন্তু তাদের কাছে এই, সামান্য ভুল যে মানুষের কত অর্থ সময় এবং দুর্ভোগ বাড়াতে পারে সে ধারণা হয়তো তাদের নেই।