নদীয়া জেলার অন্যতম কালীপুজো, শান্তিপুরের আগমেশ্বরী মাতা

News

মলয় দে নদিয়া :- নদিয়া জেলা এবং শান্তিপুরের মানুষের অন্যতম ভক্তির পীঠস্থান এবং আবেগ শ্রী শ্রী আগমেশ্বরী কালী মাতা । শান্তিপুরের শহরের খুব কম সংখ্যক মানুষই আছেন যারা এই আগমেস্বরী মায়ের মন্দিরে বা মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে আসেননি ।

ইতিহাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে যেটা জানা যায় কৃষ্ণা নন্দ আগম বাগিশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নদিয়ার নবদ্বীপে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল মাতা আগোমেস্বরি ।

ষোড়শ শতকের মধ্যভাগে বাংলায় সাক্ত ও বৈষ্ণবের চরম বিরোধ বিদ্যমান ছিল । শ্রী চৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য নদিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তান্ত্রিকরা কালী মাতার আরাধনা করতেন শশ্মানে , নদীতীরে এবং জঙ্গলে অর্থাৎ লোকচক্ষুর অন্তরালে । তত্কালীন প্রেক্ষাপটে কালী মাতার রূপটি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক কৃষ্ণা নন্দ আগম্ বাগিষ । সুদীর্ঘ মাতৃ সাধনার ফল বশত দৈব বাণী সূত্রে তিনি জানতে পারেন ভোরের আলোয় তিনি যে রূপটি প্রথম খুঁজে পাবেন সেটাই তার আরাধ্যা দেবীর রূপ । পরের দিন নিশির আঁধার কাটতেই এবং ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তে তিনি বাইরে বেরিয়ে প্রত্যক্ষ করেন এক বাগদি মহিলা আপন মনে তার কুটিরের দেওয়ালে গোবরের প্রলেপ দিচ্ছেন । কৃষ্ণা নন্দকে প্রত্যক্ষ করার মুহূর্তেই গৃহবধূ জিভ কাটলেন । সেই দৈব বাণী স্মরণ করে মুহূর্তেই মধ্যেই তিনি খুঁজে পেলেন তার অদেখা কালী মায়ের আরাধ্যা রূপ । কৃষ্ণা নন্দই সর্বপ্রথম নিজের হাতে মাতৃ মূর্তি গড়িয়ে কালী পুজোর প্রচলন করেন নবদ্বীপের আগোমেশ্বরী পাড়ায় কৃষ্ণা নন্দ প্রবর্তিত এবং প্রচলিত পদ্ধতি অনুসারে পঞ্চমুন্ডির আসনে মাতৃ মূর্তির আরাধনা হয়ে আসছে । তবে এই সমস্ত কিছুর ঘটনাস্থল বৈষ্ণব তীর্থ নবদ্বীপ ।
ইতিহাসের সূত্র ধরে আরো জানা যায় শাক্ত ও বৈষ্ণব দের মধ্যে বিরোধ মেটাতে শান্তিপুরে অদৈতা চার্জের অধস্থন পুরুষ মথুড়েশ গোস্বামী কৃষ্ণা নন্দের প্রপৌত্র সার্বভৌম আগম্ বাগিশের সাথে তার নিজের কন্যাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন । এরপরে নবদ্বীপের তত্কালীন বৈষ্ণব ও শাক্ত সমাজ সার্ব ভৌমকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নিলে শান্তিপুর বড়ো গোস্বামী পরিবারে র মথুরেশ গোস্বামী তার জামাই ও মেয়েকে শান্তিপুরে নিয়ে চলে আসেন এবং বড়ো গোস্বামী বাড়ির নিকটেই পঞ্চ মুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে সেখানে কালী পুজোর প্রচলন করেন , এরপরেই শান্তিপুর বড়ো গোস্বামী পাড়ায় কালী মূর্তির পুজো শুরু হয় , আর সেই আরাধ্যা কালী মায়ের নাম আগমেশ্বরি ।
সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে বিগত বছর ও এই বছর সর্ব সাধারণের উদ্দেশ্যে ভোগ বিতরণ বন্ধ বলেই সূত্রের খবর । তবে ইতিহাস সুত্রে আরো জানা গেলো অতীতে কার্তিকি অমাবস্যায় একদিনে মায়ের মূর্তি গড়িয়ে পুজোর প্রচলন ছিল এবং সূর্য্যদ্বয়ের আগে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হতো । তবে বর্তমানে মাতৃ মূর্তি আগে থেকে নির্মিত হলেও মৃৎ শিল্পী গোড়া পাল বা তার অধস্থন পুরুষ কর্তৃক মায়ের চক্ষু অঙ্কন করার মুহূর্তেই আগো মেস্বরি মায়ের পুজো শুরু হবার রীতি আজও বলবৎ রয়েছে ।

Leave a Reply