খুলতে চলেছে নদীয়ার শান্তিপুরের বিখ্যাত তাঁত কাপড়ের হাট ! মানতে হবে নিয়মকানুন.. বিস্তারিত জানুন

Social

মলয় দে, নদীয়া:- নদীয়া জেলার শান্তিপুরের প্রায় ষাট শতাংশ মানুষ তন্তুজীবি এবং আরো কুড়ি শতাংশ মানুষ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা এবং অন্যান্য কর্ম সম্পর্কিত বিষয়। তাই শান্তিপুরের অর্থনীতি মূলত তাঁতপ্রধান। আধুনিক যন্ত্র চালিত পাওয়ার লুম আসার পর থেকে ক্রমশ নিঃশেষের পথে হস্তচালিত তাঁত! পাওয়ারলুমের ক্ষেত্রেও সকলের আগ্রহের কারণে, উৎপাদনের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে হলেও, অন্যান্য পোশাক-আশাকের দৌরাত্ম্যে মহিলাদের শাড়ি পরার প্রবণতা কমেছে! তাই বিক্রিতেও দেখা গেছে ভাটা!

মূলত এই ক্ষুদ্র কুটির বয়ন শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকা, হাজার হাজার তাঁতি বেছে নিয়েছে অন্য উপার্জনের পথ, কেউ বা সংসার খরচ জোগাড় করতে পাড়ি দিয়েছেন জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যে বা রাজ্যের বাইরেও।

এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমনের ভয়ে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী দীর্ঘ লকডাউনে বন্ধ রাখা হয় তাঁতের হাট।
মাত্র কয়েক মাসের জন্য খোলার পর আবারও আংশিক লকডাউনে বন্ধ হলো দ্বিতীয়বারের জন্য।

ব্যবসায়ী সমিতির হাট মালিক সমিতি জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন-নিবেদন করে অবশেষে ছাড়পত্র পেয়েছে হাটখোলার বিষয়ে, তবে মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহার পারস্পারিক দূরত্ব বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন থেকে।

জানা যায় আগামী বৃহস্পতিবার, থেকে খুলে যাচ্ছে শান্তিপুরের বঙ্গ ঘোষ এবং জগদ্ধাত্রী মূলত এই তিনটি প্রধান হাট, এবং আগের মতোই সপ্তাহে বৃহস্পতি এবং রবিবার এই দুদিন চালু থাকবে। মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই তিনটি হাটে বিক্রি তাল মিলিয়ে প্রায় ৫০০০ বিক্রেতা বসেন, তবে গন পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকার কারণে হাট খুললেও, অর্ধেক বিক্রেতা এসে পৌঁছাতে পারবেন না। অন্যদিকে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা, পৌঁছতে পারবেন না তাই ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে, তবে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত তাঁত কাপড়ের আদান-প্রদানে কিছুটা হলেও অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এমনটাই বিশ্বাস করেন হাট মালিক কর্তৃপক্ষ।

আর সেই কারণে অতি তৎপরতার সাথে শান্তিপুর দমকল বিভাগকে আজ সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত দেখা গেলো তিনটি হাটের দ্বিতল ত্রিতল এবং ওই সংলগ্ন রাস্তাঘাট স্যানিটাইজার করতে।

তবে বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে দুদিন করে বসা শান্তিপুর স্টেশন সংলগ্ন রেডিমেড হাট এবং শান্তিপুর থানার মোড়ে হাটও নিজ নিজ দিন অনুযায়ী সচল থাকবে, আগের মতই তবে হ্যাঁ অবশ্যই সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

Leave a Reply