অতনু ঘোষ, মেমারি: পৃথিবীতে সকল ধর্মেই মুমূর্ষুকে দানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই দান যদি হয় রক্ত, তবে তার মহত্ব ছাড়িয়ে যায় অন্য সব কিছুকে। আমাদের দেশের হাসপাতাল এবং ব্লাড ব্যাংক গুলোতে এখন প্রয়োজনের তুলনায় রক্তের সরবরাহ কম। করোনা আবহে কমেছে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা । ফলে সারাবছর যাদের রক্ত লাগে সেই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের রক্ত পেতে সংকট হচ্ছে।
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের চাহিদা কিছুটা হলেও মেটানোর জন্য একটি যৌথ উদ্যোগে শারীরিক দূরত্ব বিধি মেনে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির “আঁচল” এবং” কিউয়েস্ট ফর লাইফ” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং তাদের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মেমারির গোপীনাথপুর বিবেকানন্দ যুব সংঘ।
পাখির কোনও দেশ নেই, রক্তেরও কোনও পৃথক রং নেই৷ তার একটিই রং, লাল৷ মানুষে মানুষে হানাহানিতে যে রক্ত ঝরে তার রংও লাল৷ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরুষ-মহিলা সহ মোট ৬০ জন রক্তদাতা করোনার স্বাস্থ্যবিধি কে মান্যতা দিয়ে এদিন স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে রক্তদাতার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাওয়ার কারণে আরো বেশকিছু রক্ত দাতা রক্ত না দিতে পেরে ফিরে যান। রক্তদানের পর প্রত্যেক রক্তদাতার হাতে একটি করে আম গাছের চারা তুলে দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। এদিন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে আয়োজকরা শুধুমাত্র রক্তের চাহিদা মেটাবার চেষ্টাই করেনি সাথে সাথে পরিবেশ কে বাঁচানোর এক ছোট্ট প্রয়াস এই রক্তদান শিবির এর মধ্য দিয়ে করেছেন।
এই করোনা মহামারীর সময় আঁচল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিনামূল্যে অক্সিজেন পরিষেবা দেওয়ার সাথে সাথে বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও নিচ্ছেন বলে জানান আঁচল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে। আচল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও কিওয়েস্ট ফর লাইফ এবং বিবেকানন্দ যুব সংঘের এই সাধু উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
পরিশেষে বলি ” এগিয়ে আসুন রক্তদানে বাঁচিয়ে তুলুন প্রান, এগিয়ে আসুন ভাইবোন সব হিন্দু মুসলমান। রক্তদানের পুণ্য বাড়ে, বারে মনের জোর, রক্তদানে এগিয়ে আসুন সারা বছর ভোর।