দেবু সিংহ,মালদা ১০ মার্চ: মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে বৃদ্ধকে ফিরে পেল তার পরিবার। সোমবার গভীর রাত্রে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার দৌলতপুর-মিলনগড় গামী রাজ্য সড়কে ১ অজানা মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধকে ঘুরতে দেখা যায়। এলাকায় উপস্থিত থাকা হোমগার্ড ও সিভিক ভলেন্টিয়ার বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তাকে সেই রাতেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাসের উদ্যোগে সেই রাতে বৃদ্ধের ছবি আশে পাশে বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ মারফত বুধবার সকালে জানা যায় ওই বৃদ্ধের বাড়ি বীরভূম জেলার পাইকর থানা এলাকায় কাশিমনগর গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই বৃদ্ধ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। বৃদ্ধের নাম আব্দুল লতিফ। বয়স(৫০)।মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। এবারও বাড়ির লোকের অজান্তে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধের বাড়ির লোকেরা বীরভূম জেলার বিভিন্ন থানাতে নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। গতকাল গভীর রাত্রে পাইকর থানা থেকে ফোন আসে। দেরী না করে বৃদ্ধের পরিবার তড়িঘড়ি মালদা জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বুধবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস ওই বৃদ্ধ কে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পুলিশের এই মহৎ প্রচেষ্টার ফলে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ নিজের ঘরে ফিরতে পারলেন। পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান সোমবার গভীর রাত্রে মিলনগড় যাওয়ার রাস্তায় উদ্ধার করা হয়। রাত্রে বেলায় আমরা থানায় নিয়ে আসি বৃদ্ধের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তারপর বিভিন্ন থানায় খবর দেওয়া হয়। এরপরই জানতে পারা যায় ওই বৃদ্ধের বাড়ি বীরভুম জেলার পাইকর থানা এলাকায়। লোকাল থানা মারফত আমরা সেখানে খবর পাঠায়। আজ ওনার বাড়ির লোকেরা এসেছিলেন। আমরা ওই বৃদ্ধ কে ওনার বাড়ির লোকের হাতে তুলে দিলাম।
বৃদ্ধ আব্দুল লতিফের স্ত্রী নাসিরা বিবি জানান আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে যায়। আমরা খুঁজে নিয়ে আসি। কিন্তু এবার সবার চোখ এড়িয়ে বাড়ির বাইরে চলে গিয়েছিল এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে এই হরিশ্চন্দ্রপুর এসে উপস্থিত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে ছিলাম কিন্তু কোথাও খোঁজ মিল ছিল না। অবশেষে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা থেকে খবর আসে গতকাল। এখানে এসে দেখতে পেলাম অফিসাররা আমার স্বামীকে খুব যত্নে রেখেছেন। খাওয়া-দাওয়া শোয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আজ হরিশ্চন্দ্রপুর পুলিশের উদ্যোগে আমি আমার স্বামীকে ফিরে পেলাম।
ওই বৃদ্ধের মেয়ে খাদিজা বিবি জানান আমার বাবা বহরমপুরএ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। ইদানিং আর্থিক ব্যবস্থার কারণে তার চিকিৎসা করা সম্ভবপর ছিল না। ওষুধ খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাবা বেশ কিছুদিন ধরে উধাও হয়ে গিয়েছিল। কোন খোঁজখবর পাচ্ছিলাম না। অবশেষে গত কাল জানতে পারি হরিশ্চন্দ্রপুর থানাতে রাখা হয়েছে। আজ আমরা বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম। ধন্যবাদ জানাই হরিশ্চন্দ্রপুর থানা পুলিশ আধিকারিকদের। ওনাদের প্রচেষ্টাতেই বাবা ঘরে ফিরতে পারলো।