মলয় দে: সম্প্রতি নদীয়ার শান্তিপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন বহু প্রাচীন ধর্মীয় এবং ইতিহাস সম্বলিত হেরিটেজ । দূর দূরান্তের পর্যটকরা এবং শান্তিপুরবাসী আশায় বুক বেঁধেছিলেন এই সুফল উপভোগ করার কিন্তু কিছু হোমস্টে এবং গাইডদের ট্রেনিং দেওয়া ছাড়া সেই অর্থে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও এই নিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধীরা কটাক্ষ করে থাকেন শাসক বলে থাকেন হেরিটেজ মানে সার্বিক উন্নয়ন রাস্তা পানীয় জল শৌচালয় থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছু আর তারই উন্নয়ন বিধায়ক তহবিল বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং পুরসভা ধারাবাহিকভাবে করে চলেছেন।
তবে বহু প্রাচীন মসজিদ মন্দির গির্জা তো রয়েছে এমনকি বহু প্রাচীন বিগ্রহ বাড়ি থেকে শুরু করে গঙ্গার ধারের প্রাকৃতিক পরিবেশ বহু প্রাচীন বেশ কিছু বাড়ি তাঁত শিল্প নিখুঁতিসহ কিছু বিখ্যাত মিষ্টান্ন এমনকি সম্প্রতি হিমসাগর ও নানান প্রজাতির আম ও আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটকদের ক্ষেত্রে। আবেগের শহর শান্তিপুরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবেশ কর্মী লেখক সাহিত্যিক সমাজের সকল সচেতন নাগরিকদের নিয়ে গড়ে উঠেছিলো সুরধ্বনি শান্তিপুর।
তবে এবার সরকারি তত্ত্বাবধানে সিভিল ডিফেন্সের বেশ কিছু অস্থায়ী কর্মীদের ট্রেনিংয়ের অঙ্গ হিসেবে পাঠানো হয়েছিল ফুলিয়া ও শান্তিপুরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরতে। এক বিশেষ শোভাযাত্রা ও র্যালি ফুলিয়ার নবলা অঞ্চল থেকে রওনা দেয় শান্তিপুরে র উদ্দেশ্যে। পাঁচু গোপাল মন্দির, ভাঙ্গা কালী মন্দির , বেলঘড়িয়ায় অবস্থিত দুর্গাপ্রসাদ জমিদারের বাড়ি, যেখানে এলাকার প্রথম দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। সেখান থেকে র্যালি যায় ফুলিয়া বয়রাঘাট ও কামাখ্যা মন্দির-এ।
ফুলিয়া পর্ব শেষ করে শোভাযাত্রা শান্তিপুরে প্রবেশ করে। সেখানে প্রথমে যাওয়া হয় মতিগঞ্জ জলেশ্বর মন্দির-এ। এরপর অংশগ্রহণকারীরা যান ঐতিহাসিক তোপখানা মসজিদ-এ। তারপর পর্যায়ক্রমে শ্যামচাঁদ মন্দির, আগমেশ্বরী মন্দির এবং বড় গোস্বামী বাড়ি পরিদর্শন করে তারা আসেন রাজ্যের দ্বিতীয় প্রাচীন শান্তিপুর পৌরসভায়। সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সকলকে একটি পুরসভা সম্পর্কিত পুস্তিকা উপহার দেওয়া হয় বলা হয় শান্তিপুর পৌরসভার ইতিহাস।
সবশেষে অদ্বৈত পাঠ-এ এসে শোভাযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। উদ্যোক্তাদের মতে, এ পর্যন্ত নদীয়া জেলায় ১৫০ জনের কাছাকাছি অস্থায়ী সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে কাজ না থাকার কারণে পর্যটনের ট্রেনিং নিয়েছেন যার মধ্যে আজকে র্যালিতে যোগদান করেছেন প্রায় ১০ জন তবে সাথে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্কুল কলেজের পড়ুয়া পরিবেশকর্মী এবং পর্যটনে আগ্রহী অন্যান্য মানুষজনও তাদের সঙ্গে ছিলেন। সকলেরই আশা প্রত্যাশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন সংক্রান্ত কাজকর্ম দ্রুত সম্পন্ন করুক। বর্তমানে কাজের প্রয়োজন সকলের, সরকারি পোর্টালে তাদের নাম নথিভুক্ত থাকার কারণে সরাসরি তাদের সঙ্গে অথবা সরকারের সাথে যোগাযোগ করে সমগ্র নদীয়া ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে তাদের কাছে।
