“বাল্যবিবাহ” সামাজিক ব্যাধি রদ করতে কাজ করে যাচ্ছে নদীয়ার ‘শ্রীমা মহিলা সমিতি

Social

মলয় দে,নদীয়া: সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, ততই যেন পর্দার আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি। এই অন্ধকার দূর করতে এবার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল ‘শ্রীমা মহিলা সমিতি’।

গত ২রা ফেব্রুয়ারি জেলাশাসকের উদ্বোধনের পর, আজ স্থানীয় সাংসদের উপস্থিতিতে ও তাঁর সবুজ সংকেতে রাজপথে নামল সচেতনতার ভ্রাম্যমাণ প্রচার গাড়ি। জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক আধিকারিক— সকলের সমবেত উপস্থিতি এই লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল।একটি সামাজিক আন্দোলনের সাফল্য শুধু সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করে না, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা।

আজকের অনুষ্ঠানে সাংসদের উপস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে,যখন একজন জনপ্রতিনিধি এই ধরনের প্রচারের সামনে থাকেন, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সৃষ্টি করে। এটি বার্তা দেয় যে, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার ও প্রশাসন কঠোর।সাংসদের আহ্বানে অনেক বেশি মানুষ এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত হন, যা একটি সাধারণ কর্মসূচিকে ‘গণ-আন্দোলনে’ রূপান্তর করে।লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিটি ব্লকে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংসদীয় কাঠামোর সহযোগিতা এই প্রচারকে আরও গতিশীল করবে।একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও রানাঘাটের মতো এলাকায় যখন বাল্যবিবাহের ঘটনা সামনে আসে, তখন তা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কেই প্রকট করে তোলে। দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং কন্যাসন্তানকে ‘বোঝা’ মনে করার মানসিকতাই এই সমস্যার মূলে।

শ্রীমা মহিলা সমিতির বার্তা: “আমরা চাই না কোনো কিশোরীর স্বপ্ন অকালে ঝরে পড়ুক। বিয়ের পিঁড়ি নয়, বরং স্কুলের বেঞ্চই হোক তাদের গন্তব্য। আজ সাংসদ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে সবুজ সংকেত দিলেন, তা এই লড়াইয়ে আমাদের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।”এই সুসজ্জিত গাড়িটি রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অলিগলিতে ঘুরবে। মাইকিং, লিফলেট বিলি এবং পথসভার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হবে যে— “বাল্যবিবাহ শুধু অপরাধ নয়, এটি একটি মেয়ের জীবন ধ্বংসের চক্রান্ত।” ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিলে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা বাড়ে, সে বিষয়েও অভিজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন। শান্তিপুরের ১০৬ বছরের বৃদ্ধের সেই জীবন উদযাপন আর রানাঘাটের এই বাল্যবিবাহ বিরোধী লড়াই— এই দুই চিত্রই আমাদের সমাজের দুটি দিক। একদিকে যেমন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে তেমনই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জেহাদ। শ্রীমা মহিলা সমিতির এই উদ্যোগ রানাঘাটের প্রতিটি ঘরে ঘরে সচেতনতার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবে, এটাই আজকের প্রত্যাশা।

Leave a Reply