অদম্য ইচ্ছাশক্তিই ধুবুলিয়ার মেয়ে পপিকে পোঁছে দিল রাজ্য ফুটবল দলে

Social

সোশ্যাল বার্তা: বাবা মাঠে কাজ করেন কোনো রকমে সংসার চলে আর এই অভাবকে নিত্য সঙ্গী করেই মেয়ে খেলল রাজ্য ফুটবল দলে ( অনূর্ধ্ব ১৯) স্কুল স্পোর্টস।

নদীয়ার ধুবুলিয়া নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয় থেকে এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে পপি মন্ডল। বাবা ভদ্রকান্ত মন্ডল জমিতে কাজ করেন। মা গৃহবধূ। ধুবুলিয়ার পাশে শান্তিনগরে বাড়ি। পপিরা তিন বোন দুই দিদির বিয়ে হয়ে গেছে ।

ভদ্রকান্ত মন্ডল মহাশয় জানান ,”মেয়ের খেলাধুলার ব্যাপারে আগ্রহ খুব। মাঝে মাঝে ভাবি কি হবে খেলাধুলা করে। কিন্তু মেয়ে নাছোড়বান্দা,সে খেলবেই। তবুও এগিয়ে চলুক ঈশ্বরের কাছে এই কামনা করি”।

       (প্রশিক্ষক: নারায়ণ সেনগুপ্ত ও ছাত্রী: পপি মন্ডল)

আর এই জেদই তাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেল। বাংলা দলের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলে সদ্য মনিপুরে থেকে ফুটবল খেলে বাড়ি ফিরেছে পপি। এই খেলায় বাংলা দল তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। গলার মেডেল দেখিয়ে বলল আরও এগিয়ে যেতে চাই। ভালো খেলতে পারলে সবাই আমায় চিনবে,সবাই আমায় ভালবাসবে। শুধু একটা জিনিস চাই সেটা হলো আপনাদের আশীর্বাদ। ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছে রয়েছে পপির বলে জানাচ্ছে সে।

এই প্রসঙ্গে পপি প্রথম যার কাছ থেকে ফুটবলের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন সেই নারায়ণ সেনগুপ্ত বলেন, খুব গরীব ঘরের মেয়ে। ধুবুলিয়া নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই ওর মধ্যে খেলার প্রতিভা ও লড়াই করার মানসিকতা লক্ষ্য করে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা ফুটবলের কোচিং এর জন্য আমার হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে অনেক পরিশ্রম করে আজ এই জায়গায় এসেছে। ও সামনের দিকে এগিয়ে যাক বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করুক এটাই চাই”।

প্রান্তিক পিছিয়ে থাকা ধুবুলিয়া এলাকার, এখন পর্যন্ত নারায়ণ সেনগুপ্তর কাছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফুটবল শুরু করে প্রায় ৫ জন মেয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে। গ্রামের মেয়ে বাংলা সুযোগ পেয়েছে জেনে খুশি এলাকার বাসিন্দারা।।

Leave a Reply