নিউজ সোশ্যাল বার্তা, ১৯শে নভেম্বর ২০১৯, সঞ্চিতা মন্ডল : চতুর্থ দিনে মিশরের আসোয়ান স্টেশনে নামার পর সবাই বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিলাম যেখানে আমাদের বাস অপেক্ষারত । স্টেশন থেকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে বাসে সামনে গিয়ে দাড়ালাম ও এক এক করে লাগেজগুলো বাসের পেটে চালান করে দিয়ে বাসে উঠে পরলাম। বাসে ওঠার পর যথারীতি হারাধনের ছেলেদেরকে আমাদের ট্যুর ম্যানেজার গুণে নিল এবং যথাযথভাবে আমাদের প্রাপ্য জল ১ লিটার করে সবাইকে দিয়ে দিল। বাস ছুটে চলল নীল নদীর পাশ দিয়ে । সেই নীল নদী ! ভাবা যায় যার কথা প্রথম বার শুনেছি যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি, ভূগোল বইতে। ভূগোলের শিক্ষিকা হওয়ার সুবাদে এখনো আফ্রিকা মহাদেশ পড়াতে গেলে নীলনদের কথা বলতেই হয় প্রতিবছরই আমাকে। বাস ছুটে চলেছে নীলনদের ধার দিয়ে আর আমি দুচোখ ভরে দেখে যাচ্ছি সেই নীলনদ কে পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী। আহ ! কি মায়াবী জল। এইসব ভাবতে ভাবতে আমাদের বাস এসে থামল আজকে আমরা যাব ফিলা টেম্পেল।
বাস থামার পর আমরা একে একে নীল নদের উপরে বোট চলে। বোট গুলোতে গিয়ে আমরা বসলাম। প্রায় আধা ঘন্টার পর পৌঁছালাম নীল নদের এক তীরে। পৌঁছে দেখি প্রচুর দোকান নানারকমের জিনিস বিক্রি হচ্ছে । ইজিপশিয়ান হার, ঘর সাজানোর জিনিস আরো কত কি । মেয়ে তো তাই দোকান গুলো কেমন যেন আমাকে চৌম্বক এর মত টানছিল। ফিলা মন্দির এর সামনে গিয়ে পৌঁছলাম। হাতে টিকিট ধরিয়ে দিল। মন্দিরে ঢোকার পর টুর গাইড মন্দিরের ব্যাপারে বোঝাতে শুরু করলো। বিরাট বড়ো বড় পিলার। গায়ে সেই হায়রোগ্লিফি তে লেখা। বিস্তারিত বলতে শুরু করল গাইড । কিছুক্ষন শুনলাম তারপর ফটো তোলাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম। মন্দিরের চারপাশে নীল নদ। দারুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মন্দিরের চারপাশটা ঘুরে দেখতে লাগলাম। মন্দিরটি প্রায় হাজার তিনেক বছরের পুরনো হবে । ঘণ্টা দেড়েক পর আমরা আবার সেই বোট এ উঠে বসলাম। বোট ছুটে চললো নীল নদের উপর দিয়ে। সবাই মোহিত হয়ে দেখতে লাগলাম নীল কে। এসে পৌঁছলাম নীল নদের পাড়ে। বোট থেকে নেমেই নীল নদের জলে পা ভিজিয়ে জলে হাত দিয়ে একটু খানি জল তুলে নীল এর জল খেয়ে দেখলাম। দারুন সুন্দর টেস্ট । এইসব করে বাসে উঠে বসলাম। বাস গিয়ে দাড়াল আমাদের ক্রুজ এর সামনে।
এই ক্রুজেই নীল নদের উপর আমরা তিন রাত থাকবো। ক্রুজ এর নিয়ম টুর গাইড আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে । ক্রুজ এর বাইরে যখন তখন যাওয়া যাবে না। কেননা ক্রুজ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে মুশকিল। বাস থেকে নেমে ক্রুজ এ আমরা যাওয়ার তোর জোড় শুরু করলাম। সেই সময় আবার দেখছি নীল নদে নামার সিড়ি। সিড়ি দিয়ে নেমে জল ছুঁলাম আমরা দুই বোন। তারপর ক্রুজে ঢুকে পড়লাম। ক্রুজ এ ঢোকার পর দেখছি এতো ৫ তারা হোটেল ফেল। দারুন যাকে বলে। নীল নদের উপর এরকম ক্রুজ প্রায় ৪৫০ টি চলে ট্যুরিজম এর জন্য।।। ক্রুজ এ ঢুকতেই আমাদের সেই লাল পানীয় জল দিল যা জবা ফুল দিয়ে তৈরি। পানীয় মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টুর ম্যানেজার বললো তোমরা দুই বোন কি নদীর জলে নেমেছিলে ? পুলিশ দেখেছে। তোমাদেরকে ডাকছে কিছু ফাইন দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বাবার বকুনি শুরু হয়ে গেলো। তবে ফাইন কিছু দিতে হই নি পুলিশকে। তারপর ক্রুজের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা আমাদের সবার পাসপোর্ট তিন দিনের জন্য নিয়ে রেখে দিল। রুম নম্বর দিয়ে দিল। রুম খানা অসাধারণ ।আমার তো টাইটানিক এর কথা মনে পড়ে গেলো। জানালা দিয়ে দেখছি কি সুন্দর নীল নদ।লাঞ্চের সময় হল । ক্রুজ এর একদম নিচের ফ্লোরে ডাইনিং। ক্রুজে খাওয়া দাওয়ায় খুব নিয়ম এবং সময় মাফিক। ক্রুজ এ আমাদের জন্য যে কটা টেবিল বলে দিয়েছিল সেই কটা টেবিল এই প্রতিদিন তিন বেলা খাবার জন্য বসতে হবে। একই ধরনের লাঞ্চ সেরে গেলাম রুমে।টুর গাইড বলে দিল ৩ টের সময় বেরোব বোটিং করতে। এক এক করে একটা বোট এ উঠে বসলাম। যারা বোট চালাচ্ছিল তারা বেশির ভাগ সবাই নুবিয়ান উপজাতির লোক। বোট এ আমাদের ওই নাবিয়ান রা খুব ভালো ভাবে এন্টারটেইনমেন্ট করলো। ওদের ভাষায় আমাদেরকে নিয়ে গান শোনালো। নাবিয়ান রা অনেক কিছু বোট এ হার চুরি ওদের বানানো বিক্রি করছে। দাম কিন্তু প্রচুর। তারপর আমরা কয়েকজন অন্য বোট এ চেপে বসলাম।যাবো নুবিয়ান ভিলেজে। নুবিয়াণ দের বাড়ি ঘর সংস্কৃতি ইত্যাদি দেখার জন্য । এটার জন্য টুর গাইড আমাদের প্রতি জন এর কাছ থেকে ৩৫ ডলার করে নিয়েছে। যারা এই গ্রামে যায়নি যারা আগের বোট এ করে ক্রুজ এ চলে গেছে তাদের এই টাকাটা লাগে নি।
নুবিয়ান গ্রামে পৌঁছলাম। ওখানে বাচ্চা মেয়ে গুলো আমাদের দেখা মাত্রই বিন্দি করে করে আমাদের সাথে সাথে দৌড়ে আসছে।
ওদের বিন্দি লিপস্টিক পরা নিষেধ। তবু ওরা সাজতে গুজতে টিপ পরতে খুব ভালোবাসে। আমার কাছে থাকা বিন্দি ওদেরকে পরিয়ে দিলাম। ওরা আমার কাছ থেকে টিপ এর পাতা টি ছিনিয়ে নিল। বছর ৬ কি ৭ বয়স হবে মেয়েগুলোর ।কিন্তু প্রতিটা বাচ্চা ডলার এর ব্যাপারে খুব অভিজ্ঞ। সবার হাতে কিছু হার আছে তারা হাতে নিয়ে ঘুরছে ট্যুরিস্টদের আগে পিছে এবং প্রতিটা হার এর দাম ১ ডলার ২ ডলার বলছে। আমি দেখে খুব অবাক হলাম। আমার স্কুল এর দশম শ্রেনীর বাচ্চা গুলো ডলার কি সেটা অনেকেই বলতে পারবে না। ওই নুবীয়ান গ্রামের বাড়ি গুলো গুম্বজের মতো ওখানকার জলবায়ুর জন্য। এই সব দেখতে দেখতে একজনের বাড়িতে ঢুকলাম। বাড়ির ভেতরের বসার জায়গাটি বালি দিয়ে ভর্তি। বাড়িটি’র ভেতরটি সাজানো নানারকমের মরা পাখির খোলস দিয়ে ।বাড়িটির সিড়ি দিয়ে উঠে দেখলাম উপরে ছাদ আছে চতুর্দিক জানালা দরজা বিহীন বসার জায়গা । দেওয়ালে আঁকা রয়েছে নানারকম চিত্র। বাড়িটিতে দেখলাম বড়ো বড়ো দুটি কুমির। একটি বাচ্চা কুমির। নুবিয়ান’রা কুমিরদের কে ভগবান মনে করে। বাড়িটিতে আমাদেরকে ওই পানীয় হিসাবে জবা ফুল এর ওই পানীয়। পাউরুটি এবং চা। খাবার পর বাচ্চা কুমিরটিকে বের করে মুখটি গার্ডার দিয়ে বেঁধে আমাদেরকে হাতে দিল। ছবি তোলার জন্য। ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা স্কুলে নিয়ে গেলো। ওখানে আরবী শেখানো হচ্ছিল। ৩৫ ডলার মত নুবিয়ান গ্রাম দেখার কিছু নয়। টুর ম্যানেজারের আমাদের কে টুপি পরানো কাজ। যাওয়া আসা সব কিছু মিলে ১৫ ডলার করেও হবে না। জিজ্ঞাসা করে দেখলাম। টুর ম্যানেজার আমাদের ২৩ জনের প্রতি জনের থেকে ২০ ডলার করে বেশি নিয়েছে।।তারপর ওখানে মার্কেট ঘুরে বোট এ এসে চাপলাম। তখন রাত্রি ৭ টা বেজে গেছে। ক্রুজ এ রাত্রের খাবার এর সময় হয়ে গেছে।ক্রুজ এ ঢুকে টুর ম্যানেজার বললো ৮.৩০ অব্দি রাত্রের খাবার এর সময়। ৯ টা থেকে বেলি ড্যান্স হবে ১০ টা অব্দি। তারপর আমরা ১১.৪৫ এ বেরোব আবু সিম্বল এ মন্দির এ sun festival দেখতে। এই sun festival বছরে দুটি দিন হয় এই মন্দিরে ২২শে অক্টোবর ও ২২শে ফেব্রুয়ারি। যাই হোক রাত্রের খাবার খেয়ে সময় মত বেলি ড্যান্স দেখতে এলাম।৯.৪৫ এ রুমে গিয়ে তৈরি হয়ে একটু শুলাম। অ্যালার্ম বাজলো রুম থেকে বেরিয়ে রিসেপশন এ পৌঁছালাম। ক্রুজ থেকে বেরোনোর সময় একটি করে কার্ড দিল। সেটা রেখে দিতে হবে এবং ক্রুজে ঢোকার সময় আবার ওটা নিয়ে নেবে। ব্রেকফাস্ট নিয়ে বাসে উঠে পড়লাম। বাস ছাড়ল ১২ টা এর সময়।কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বাস দাড়ালো পুলিশ স্কট এর জন্য।পুলিশ পেয়ে বাস ছাড়ল। বাস ছুটে চললো মুরুভূমি এর উপর দিয়ে। সবাই ঘুমে ঢুলছে বাসের মধ্যে। মাঝখানে একবার বাথরুমের জন্য রাত্রি ২.৩০ মিনিট নাগাদ থামলো একটি ধাবাতে। দু পাউন্ড করে টয়লেট করার চার্জ।
ভোর ৪.১৫ মিনিট নাগাদ আমরা আবু সিম্বল মন্দিরে এ গিয়ে পৌঁছলাম। জার্নি খুব কষ্টের । হাতে টিকিট ধরিয়ে ব্যাগ চেক করিয়ে ঢুকলাম। হেঁটে যেতে হবে অনেক টা। তখন আরো টুরিস্ট রা ও আমাদের সঙ্গে হাঁটছে। গিয়ে লাইন দিতে হবে। লাইনে দাড়ালাম। টুর গাইড বোঝাতে লাগলো। আসলে মন্দির টির যে sun festival প্রচার করে আমাদের টুর কোম্পানি নিয়ে এসেছে। সেটা হলো ওই দুই দিন ২২শে অক্টোবর এবং ২২শে ফেব্রুয়ারি সূর্যের আলো নাকি মন্দির টির ভেতর প্রবেশ করে। ভেতরে চারটি মূর্তি আছে সেই চারটি মূর্তি এর একটি মূর্তির মুখের উপর সূর্যের আলো পড়বে।। আমাদের মন টা একটু শুনে ভালো লাগলো । যাক এত কষ্ট করে সারারাত জেগে এসে এত অদ্ভুত সুন্দর জিনিস দেখতে পাবো। সেটা কম কিছু নয়। ভোরের আলো ফুটছে। পাশেই দেখছি বিরাট বড়ো লেক। নাসের লেক। আবু নাসের যখন প্রেসিডেন্ট ছিলো তখন এই লেক টি করেছিল। নীল নদের জল ই উৎস এই লেকটির। সূর্যের যখন উঠছে তখন লেকের জল দুর্দান্ত লাগছে। তখন অনেক এ নানারকম প্রজাতির লোক ড্যান্স করছে । তারপর টুর ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করলাম আমরা কখন ওই আশ্চর্য জিনিসটা দেখতে পাবো? টুর ম্যানেজার বলে উঠলো মন্দিরে আলো ঢুকছে সেটা তো দেখতে পাবে না। মিনিট চারেক এর মতো থাকে। বাইরে স্ক্রিন করা আছে সেটা তে দেখতে পাবে। তারপর রাগ লেগে গেলো টুর কোম্পানি এত এটা নিয়ে কাস্টমারদের কে বলেছে। শেষে এই অবস্থা? মানে পুরোটাই চোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া কিছু নেই। মন্দির এর ভেতর ঢুকলাম ঘুরে ঘুরে দেখলাম। প্রধান ওই চারটি মূর্তির সামনে দেখছি লাইট দেওয়া আছে। তাই আদৌ যেটা স্ক্রিন এ দেখছি সেটা সূর্যের আলো না ওই লাইট এর আলো বোঝা কিছুই গেলো না। বিরক্ত লেগে গেলো এত কষ্ট করে এসে শেষ এ এই ! পাশেই আরেকটা মন্দির আছে সেটা দেখে নাসের লেক এর চারপাশটা দেখে বাসে এর কাছে এসে হাজির হলাম। বাস ছাড়ল। ব্রেকফাস্ট বাসেই করলাম। বাস ছুটে চললো মরুভূমির উপর দিয়ে। চারি দিকে ধূ ধূ মরুভূমি।সবাই ঘুমে ঢুলছি। তারপর বাস এসে দাড়ালো Aswan high dam এ।
যেটা বলা যেতে পারে পৃথিবীর বৃহত্তম ড্যাম গুলোর মধ্যে একটা। রাস্তার একদিকে ড্যাম। আরেকদিকে নাসের লেক। ড্যাম এ দেখলাম জলবিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। বাসে উঠে বসলাম। সোজা ক্রুজে। ক্রুজে ঢোকার সময় ওই কার্ড টি নিয়ে তবেই ঢুকতে দিল। ক্রুজ এ ঢুকেই লাঞ্চ করে রুমে গেলাম। তখন ক্রুজ ছেড়ে দিয়েছ। ফ্রেশ হয়ে ক্রুজের ছাদে গেলাম চা খেতে। ক্রুজের ছাদে উঠে অপূর্ব লাগছিল। নীল নদ এর উপর দিয়ে ক্রুজ যাচ্ছে। দারুন দারুন লাগছিল। ছাদ এ চা খেয়ে রিসেপশনে যাবো। এই সময় টুর গাইড এর সঙ্গে একটু গল্পঃ করতে করলে নীল নদের জল দারুন খেতে কেন জল এইখানে এত বেশি দামে কিনতে হয়? টুর গাইড বলে উঠলো আপনি নীল নদের জল টেস্ট করেছেন?তাহলে আরেকবার ইজিপ্ট আসতেই হবে আবার।
ইজিপশিয়ান’র মনে করে বাইরের দেশ এর কেও নীল নদের জল খেলে তাকে আবার ইজিপ্ট আসতেই হবে। টুর গাইড বললো সবার নীল নদের জল সুট করে না। ইজিপশিয়ানদের খেলে কিছু হয় না কেননা তাদের স্টোমাক ওই জলে অভ্যস্ত। আমার তো মনে হলো জল টাকে নিয়ে ব্যাবসা করার জন্য ওরা এইসব বলে। ক্রুজ দাড়ালো নীল নদের তীরে। দেখতে যাবো kom ombo temple and crocodile meuseum..
একই ধরনের ওই মন্দির বড়ো বড়ো পিলার আর ওই হাইরোগলিফি।
আমার বাবা তো বলেই দিল আর এই ইট ভাটার মত মন্দির আর আঁকি বুকি দেখতে ভালো লাগছে না। তারপর গেলাম crocodile meuseum। দেখলাম কুমির গুলোকে মমি করে রেখেছে। সব কিছু দেখে ফটো তুলে ক্রুজে এসে হাজির হলাম। একেবারে ডিনার করে রুমে ফিরলাম। টুর ম্যানেজার বলে দিলো আজকে দেখানো হবে গ্যালাভিয়া ড্যান্স। বাকি অন্যান্য দেশের লোকেরা খুব উপভোগ করছিল বেলি ড্যান্স এবং গ্যালাভিয়া ড্যান্স। এইসব দেখে রুমে ঢুকে শুয়ে পড়লাম। আজ প্রচুর ক্লান্ত ছিলাম কখন ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই জানিনা । (ক্রমশ )
Facebook: News Social Barta 24×7
Whats App: 9434158779