বোগেনভেলিয়া বা বাগানবিলাস গাছে বেশি ফুল কিভাবে পাওয়া যাবে? পরিচর্যা কীভাবে করবেন জানুন বিস্তারিত ..

Social

সোশ্যাল বার্তা: বোগেনভেলিয়া বা বাগানবিলাস বর্তমানে অধিকাংশ বাড়ির ছাদ বা বাগানে থাকেই। পৃথিবীতে মোটামুটি ৩০০’র বেশি বিভিন্ন প্রজাতির এই ফুল গাছ রয়েছে । বড় গাছ বা ছোটগাছ এমনকি সুন্দর বনসাই গাছও বর্তমানে ফুল প্রেমীদের নজর কাড়ছে। তবে কিছু কিছু গাছের ক্ষেত্রে দেখা যায় ফুল বেশি বা আবার কিছু কিছু গাছে ফুল কম কিন্তু পাতা বেশী। এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কিছু বিষয় যার কারণেই ফুল কম এবং বেশী হয়।

নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের সন্ধ্যা মাঠপাড়ার গুলমোহর নার্সারির শুভঙ্কর বিশ্বাস জানান, এই ফুলের যত্নের জন্যই ফুল কম বেশি হয়। তিনি জানান এই গাছের যত্ন মোটামুটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারেঃ

প্রথমত: ফুল গাছের জন্য মাটি তৈরি করতে হবে গোবরের সার, মাটি ও সামান্য পরিমাণে বালি দিয়ে।

দ্বিতীয়ত: বোগেনভিলায়া গাছটি যেখানে রাখবেন সেখানে যেন প্রচুর রোদ থাকে। কাঁটা জাতীয় গাছ ৭-৮ ঘন্টা সরাসরি রোদ পেলেও গাছের কোন ক্ষতি হবে না। রোদ কম হলে পাতা বেড়ে যাবে কিন্তু ফুল কম হবে।

তৃতীয়ত : গাছে মাঝে মাঝে খোলের জল দেবেন। গাছের ডালপালাও মাঝে মাঝে কেটে দিতে হবে। বিশেষ করে বছরে দুবার অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে বড়ো ডাল গুলোকে কেটে দিতে হবে। গাছটি যাতে সুন্দর দেখায় তার জন্য ডালপালাগুলি তার দিয়ে সেফ করে বেধে রাখুন।

চতুর্থত : গাছে ফুল কেমন হবে সেটা অনেকটাই নির্ভর করে জলের উপর। দল খুব বেশি পরিমাণে দেওয়া যাবে না। গাছ স্বাস্থ্যবান করতে জল দিতে হবে তবে বেশি নয়। ধীরে ধীরে জল কমাবেন। গাছ স্বাস্থ্যবান কিন্তু ফুল না এলে জল দেওয়া কমিয়ে দিন। টবের মাটির উপর ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি মাটি যখন শুকিয়ে যাবে তখন জল দিতে হবে। গাছে ফুল আসার পরে ফুল থাকা অবস্থায় কিন্তু জল ঠিকঠাক দিতে হবে ।

পঞ্চমত : গাছে বিশেষ করে তিনটি মূল উপাদান লাগে- নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম। জৈব অথবা রাসায়নিক যেকোনো সারের ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জৈব সার ব্যবহার করাই ভাল মাটির গুণগত মান ঠিক থাকে।

জৈব সারের মধ্যে কম্পোস্ট, সরষের খোল, নিম খোল, শিং কুচি, হাঁড়ের গুড়ো, ডিমের, কলার খোসা সহ অন্যান্য সার ব্যবহার করতে পারেন।

রাসায়নিক সারের ক্ষেত্রে পরিমান মতো ডিএপি বা সুফলা দিন ৩মাসে একবার।

ষষ্ঠত: মাঝে মাঝে অনুখাদ্য অন্তত চার মাসে একবার স্প্রে করে দিন ও শীত আসার আগে একবার বিষও হালকা করে স্প্রে করে দিতে পারেন।

পরিশেষে শীত আসার আগের মুহূর্তে গাছে জল কমিয়ে দিন শুকনো নিম খোলের গুড়ো ও ফসফেট মিশিয়ে অল্প পরিমাণে গাছের টবে বা মাটির চারদিকে দিয়ে দিন।

Leave a Reply