নদীয়ার কৃষ্ণনগরে সিঞ্চন এর ইন্টিমেট থিয়েটার

Social

সোশ্যাল বার্তা : করোনা অতিমারীর সময়ে যখন স্তব্ধ সারা বিশ্ব। গৃহবন্দী রয়েছেন সাধারণ মানুষ । থিয়েটার হয়েছে ঘরবন্দি । এই দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে কিভাবে থিয়েটার নির্মাণ করা যায় সেই ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের নাট্য সংস্থা  “কৃষ্ণনগর সিঞ্চন” ।

সংস্থাটি এই সময়েই গড়ে তোলে তিনটি একক নাটক । নাটকের আঙ্গিক বেছে নেওয়া হয় লোকজীবনকে কেন্দ্র করে। করোনাকালীন সময়ের ইতিবৃত্তকে মুখ্য বিষয় করে কথকথার বর্ণনাত্মক আঙ্গিকে গড়া হয়েছে “করোনা কথা”, অভিনয়ে মিষ্টু মন্ডল।

আত্মকথনের ভঙ্গিতে ঘরের ছেলে যারা বাইরে থেকে এসে পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হলো সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে গড়ে উঠেছে নাটক – “পরিযায়ী” ,অভিনয়ে গৌর সাহা ।

 

‘মাদারি কা খেল’ কে আঙ্গিক করে নির্মিত হয়েছে “আসলিয়াৎ পেহেচান”, অভিনয়ে মুখর প্রামানিক।

নাটক গুলির রচনাকার ও নির্দেশক -“সুশান্ত কুমার হালদার” । আবহ করেছেন স্বাগত বৈশাখ হালদার । মঞ্চ নির্মাণে প্রসেনজিৎ নন্দী।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর “কৃষ্ণনগর সিঞ্চন” ২১ শে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেছে তাদের ধারাবাহিক প্রদর্শন । ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন মঞ্চ উপকরণের সাহায্যে তাদের মহলা কক্ষকে রূপান্তরিত করেছে সুদৃশ্য ইন্টিমেট থিয়েটারে । দূরত্ব বিধি মেনে , স্যানিটাইজার ব্যবহার করে, মাস্ক মুখে বেঁধে দর্শক আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন থিয়েটার থেকে বঞ্চিত কৃষ্ণনগরের নাট্যমোদী দর্শকদের মধ্যে এই ইন্টিমেট থিয়েটার নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে প্রবল। পরপর দুটি শো পূর্ণ হয়ে গেছে । আগামী চারটে শো এর জন্য অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন। প্রথম সপ্তাহে দুটি শো করলেও পরের সপ্তাহ থেকে তিনটি শো তারা করছেন। এই ইন্টিমেট ফর্মকে ঘিরে তারা নতুন নাটক গড়ার কথাও ভাবছেন।
প্রত্যেক প্রদর্শনীতে “কৃষ্ণনগর সিঞ্চন ” প্রদান করছে “কোভিড যোদ্ধা সম্মান ২০২০”। করোনাকালীন সময়ে আলোক বৃত্তের বাইরে থেকেও যারা মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন এক একজন সৈনিকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এই সম্মান।
কৃষ্ণনগর সিঞ্চন এর কর্ণধার “সুশান্ত কুমার হালদার” জানালেন -“এই প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ তুলে দেওয়া হবে লকডাউন পিরিয়ডে কাজ হারানো নাট্যকর্মীদের অসহায় পরিবারের হাতে। যাতে পুজোর কটা দিন তারা একটু হাসির মুখ দেখতে পারেন। “

Leave a Reply