অঞ্জন শুকুল, নদীয়া : পূর্ব রেলের শিয়ালদহ গেদে মেইন লাইনে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী স্টেশন বানপুর।স্টেশন থেকে দু কিলোমিটার দূরে ইতিহাস প্রসিদ্ধ গ্রাম মাটিয়ারী।
ফনদীয়া জেলায় অবস্থিত গ্রামটি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দ মজুমদার এবং এখানকার একমাত্র উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পীরসাহেবের দরগার জন্য প্রসিদ্ধ। স্থানীয় জনগণের কাছে বাবা বুড়ো সাহেবের দরগা নামে পরিচিত।
যতদূর জানা যায় পীরসাহেব ভবানন্দের সময়কালে ১৬০৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দ মাটিয়ারীতে আসেন। তিনি সিদ্ধপীর ছিলেন। পারস্যের ইস্পাহান শহর থেকে এখানে আসেন তিনি। তাকে সদানন্দ ‘ফকিরের বাদশা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর অলৌকিক গুণে ও জনহিতকর কাজে মুগ্ধ হয়ে এখানে থেকে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি যে তারিখে এখানে পদার্পণ করেন এবং যে তারিখে ইহলোক ত্যাগ করেন সেই তারিখটি ছিল গতকাল অম্বুবাচী শুরুর দিন ৭ আষাঢ়।তার সমাধীর উপর নির্মিত দরগাকে কেন্দ্র করে মৃত্যু পরবর্তী সময় থেকে এখানে মেলা বসে।
বুড়ো সাহেবের দরগা হল সর্ব ধর্মের সম্প্রীতির পীঠস্থান। বিশেষ করে মেলার প্রথম দিন থেকে এখানে হিন্দু মুসলমান ধর্মের মানুষেরা সমবেত হন। ফকির দরবেশ ভক্তের মহাসমাবেশে দরগা নতুন রূপে সেজেছে। বাবা বুড়ো সাহেবকে নিয়ে নানান অবাক কাহিনী ছড়িয়ে আছে।মানুষের কাছে ভরসা এবং নির্ভরতার প্রতীক পরম আশ্রয় স্থল। এখন ও মেলা সাত দিন ধরে চলে। ওপার বাংলাদেশ সহ এপারের দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সমাবেত হয়।
ঝিনাইদহ বাংলাদেশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বুড়ো সাহেবের দরগায় দোয়া নিতে আসেন বর্তমানে ঝিনাইদহে তিনবারের এমপি আব্দুল হাই। এছাড়াও আসেন আরও উল্লেখযোগ্য মানুষরা।
দুর্ভাগ্য এবারে করোনার আক্রমণে অম্বুবাচী মেলা বন্ধ। দরগায় স্থানীয় কিছু ভক্তরা এসেছেন। সমগ্র পরিবেশ প্রতিকূল। অনেকেরই কন্ঠে আক্ষেপ ঝরে পড়ছে। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধছেন সামনের বছরে নিশ্চয়ই পরিস্থিতি অনুকূল হবে।বানপুর হাই স্কুলে র প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার মিত্র জানালেন হিন্দু মুসলিম উভয় ধর্মে র মানুষ পূজা দেন নিউ ধর্ম শাস্ত্র মতে । একসাথে খাওয়া দাওয়া এখানকার বৈশিষ্ট্য । আমার প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি ।
শুধু রাজ্য নয় ভিনদেশের মানুষের মধ্যে মেল বন্ধন ঘটে পীর সাহেবের দরগাই ।