ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য স্কুলপড়ুয়া “মৌ” এর শখের লম্বাচুল দান

Social

মলয় দে, নদীয়া: নদীয়ার রাধারানী নারী শিক্ষা মন্দিরের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌ দাস অন্য আর পাঁচজন বান্ধবীর মতন নিয়মিত চুলের যত্ন করত। প্রতি বছর পুজোর সময় পার্লারে গিয়ে চুল ছাটতো না, ছোট হয়ে যাওয়ার ভয়ে ! বেশ কিছুদিন ধরে তার দৃষ্টিগোচর হয় কিছু ক্যান্সারের আক্রান্ত কেমোথেরাপি নেওয়া চুল বিহীন মহিলাদের। স্বভাবতই কিশোরী মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়! মা পুতুল দাস ও নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে সে জানতে পারে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের কেমোথেরাপি চলা অবস্থায় চুল উঠে যায়। লম্বা পটচুল উপযুক্ত জোগান বা অত্যাধিক দামের কারণে ব্যবহার করতে পারেন না অনেকেই।

একজন মেয়ে হিসেবে আরেকজন মেয়ের দুঃখ অনুভব করে সে। আত্মীয়-স্বজন বাধা দেবে এই ভয়ে, ইন্টারনেট সার্চ করে খুঁজে নেয় উপযুক্ত দেওয়ার জায়গা। ভয়ে ভয়ে মাকে জানায় সে। মেয়ের অন্যের প্রতি সমবেদনা মহৎ উদ্দেশ্যকে কোনোভাবেই যুক্তি দিয়ে খন্ডাতে পারে না। অবশেষে আজ সেই দিন। ১৯ ইঞ্চি লম্বা চুল, স্থানীয় পার্লারে গিয়ে কেটে নেয় এক নিমেষে, প্যাকেটজাত করে পাঠিয়ে দেয় ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত ঠিকানা অনুযায়ী। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত,বান্ধবী সকলের নানান প্রশ্ন কৌতুহল জল্পনা থাকলেও ছোট্ট মৌ খুব খুশি,১জন ক্যান্সার রোগীকে হলেও ব্যয়বহুল চিকিৎসার পরে সর্বশান্ত হীনমন্যতায় ভোগা কোন এক মহিলার বাকি জীবন কাটবে হাসিতে খুশিতে…

তার সামান্য চুলের বিনিময়ে।ক্যান্সার রোগীদের জন্য তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।