প্রজাপতি হোক কিংবা মৌমাছি ফুলদানি হোক কিংবা বিভিন্ন জীবজন্তু কাঠের তৈরি অসাধারণ শিল্প-কর্মের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে শান্তিপুরের শিল্পী ব্রজেন
মলয় দে নদিয়া:-শিল্পের পৃষ্ঠপোষকরা খুঁজে বেড়ায় শিল্পকর্ম, আর সুচতুর ব্যবসায়ী না হওয়ার কারণে শিল্পীর শিল্প মান পায় না। উদাসীন শিল্পীদের ক্ষেত্রে এমনটা খুব স্বাভাবিক বিষয়।
চলছে অরণ্য সপ্তাহ! বৃষ্টির মরশুমে বৃক্ষরোপণ প্রায় সর্বত্র। কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি নির্দেশে এ সময় গাছ কাটার কিছু বিশেষ নির্দেশ রয়েছে। তবে উন্নয়নের নিরিখে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে কাঠ ব্যবসা কিন্তু নিষিদ্ধ নয়, প্রয়োজন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের সম্মতিক্রমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চিরাচরিত এই পেশার উপর নির্ভরশীল মানুষদেরও কাজকর্ম করার অধিকার আছে।
তবে এই অরণ্য সপ্তাহ তে তুলনামূলকভাবে কাজকম থাকে ছুতোর মিস্ত্রিদেরও। আর সেই অবসরে তাদের নানান শিল্পকর্ম ফুটে ওঠে। নদীয়ার শান্তিপুর নতুনহাট সংলগ্ন এলাকার ব্রজেন শর্মা শুধুমাত্র একজন ছুতোর মিস্ত্রি তাই নয় সে একজন শিল্পীও। তবে খাট আলমারি ড্রেসিং টেবিল নানান কাঠের আসবাবপত্র যেমন মজুরি এবং লভ্যাংশ পাওয়া যায় তবে শিল্পের কদর যেখানে আছে সেখানে হয়তো তিনি পৌঁছতে পারেননি তাই বাধ্য হয়েই কাজকে ভালোবেসে অবসরে বানানোর নানান সৌখিন শিল্পকর্ম জমিয়ে রাখতেন বাড়িতেই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সামনে তার আত্মীয় কানাই শর্মার দোকানে সম্প্রীতি মাস পাঁচেক হলো সেই গুলি ঠাঁই পেয়েছে। কানাই বাবু জানাচ্ছেন দোকানের শোভা বর্ধন হয় অনেকেই আসে দেখে কিন্তু অভ্যাংশ তো দূরে থাক কাঠের দামও ধরা হয় না শুধুমাত্র মজুরি টুকু দিয়েই বিক্রির চেষ্টা কিন্তু তাতেও উপযুক্ত শিল্পের কদর দেওয়া মানুষজন হয়তো আসেননি। তাই বিক্রি হয়নি একটিও। তাই নতুন করে শিল্পীকে আর অর্ডার দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শিল্পী অবশ্য এতে একেবারেই বিচলিত নন তিনি বিশ্বাস করেন শিল্পকর্মের মর্যাদা দেওয়া মানুষজনের সাথে হয়তো এখনো সমন্বয় সম্ভব হয়নি আগামীতে তাদের খোঁজ পেলে তারাও যেমন সংগ্রহ করতে পারবে অন্যদিকে শিল্পীর অর্থ উপার্জনও সম্ভব হবে। শিল্পী জানাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি কাটেই খোদাই করে হরিণ ক্যাঙ্গারু খরগোশ নানান জীবজন্তু আবার প্রজাপতি মৌমাছি অন্যদিকে ফুলদানি ঘর সাজানোর সৌখিন নানান উপকরণ বানানো হয়। কোনোটা একদিনই হয়ে যায় কোনটা আবার সপ্তাহখানেক। দাম বলতে কাঠের দাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মুজরি হাজার টাকা থেকে শুরু দু তিন হাজার টাকার মধ্যে নানান উপকরণ রয়েছে তবে যদি ক্রেতা নেয় সেক্ষেত্রে পালিশ করে দেওয়া হয়।
ফুলের পাতা থেকে শুরু করে কুড়ি পাপড়ি কান্ড সম্পূর্ণটাই অসাধারণ শিল্পকর্ম। অন্যদিকে বিভিন্ন জীব জন্তু কিংবা ঘর সাজানোর অন্যান্য উপকরণ সবটাই নিখুঁত হাতে শিল্পকর্মের নিপুন দক্ষতায় ভরা। তবে দোকানদার কিংবা শিল্পী দুজনেই জানাচ্ছেন সরকারি যোগাযোগে যদি ক্ষুদ্র কুটির শিল্পর মেলা কিংবা অন্যান্য নানান এক্সিবিশনে তাদের শিল্পকর্ম তুলে ধরার সহযোগিতা করা হয় তাহলে তারা আরও অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য কাজে হাত দেবেন। তবে দুজনের কেউই ব্যবহার করেন না সামাজিক মাধ্যম কিন্তু মোবাইলে ছবি পাঠালেই যেকোনো ধরনের বিষয়বস্তু তারা প্রস্তুত করে দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন।
