কৃষ্ণনগর, নদীয়া, ১৪ আগস্ট ২০২৬:
আয়ুষ্মান সপ্তাহ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে গতকাল নদীয়া জেলায় পালিত হল নিক্ষয় পোষণ দিবস। জেলার ২৬টি টিবি ইউনিটে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যক্ষ্মা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিক্ষয় পোষণ যোজনার পুষ্টি সহায়তা ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ভ্যালিডেশন এবং অতিরিক্ত পুষ্টি সহায়তার লক্ষ্যে নিক্ষয় মিত্রদের মাধ্যমে ফুড বাস্কেট বিতরণ করা হয়।
জেলায় এই কর্মসূচিতে মোট ৩,৯৬০ জনের উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে মোট ৪,১৯৫ জন, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৬ শতাংশ মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এই দিনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল, ১৪১ জন নিক্ষয় মিত্র টিবিমুক্ত ভারত অ্যাপের মাধ্যমে নথিভুক্ত হয়ে ৬০৬ জন যক্ষ্মা রোগীকে আগামী ছয় মাসের জন্য দত্তক গ্রহণ করেন। নিক্ষয় মিত্ররা অতিরিক্ত পুষ্টি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসাধীন যক্ষ্মা রোগীদের পাশে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দাঁড়ানোর এবং নদীয়া জেলাকে টিবিমুক্ত করার লক্ষ্যে নিরন্তর সহযোগিতা করার সংকল্প গ্রহণ করেন।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. রঞ্জিত কুমার দাস এবং জেলা যক্ষ্মা আধিকারিক ডা. পার্থ প্রতীম পাত্র নদীয়া জেলার বর্তমান সমস্ত নিক্ষয় মিত্রকে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, আগামী দিনে যাঁরা নিক্ষয় মিত্র হিসেবে এগিয়ে এসে যক্ষ্মা রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান, তাঁদেরও এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে নদীয়া জেলার সমস্ত প্রাইভেট হেলথ ফেসিলিটি-কেও বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তাঁরা চিকিৎসাধীন যক্ষ্মা রোগীদের পাশে চিকিৎসার পাশাপাশি নিক্ষয় মিত্র হিসেবে পুষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই নদীয়াকে যক্ষ্মামুক্ত করার লক্ষ্যে আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নদীয়া NTEP টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা, নিক্ষয় মিত্রদের মানবিক উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নিক্ষয় পোষণ দিবসের এই কর্মসূচি নদীয়া জেলায় যক্ষ্মামুক্তির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
