সাবেকি মাঞ্জার সুতির সুতো কাগজের ঘুড়িতেই ফিরুক শৈশব: চিনা সুতো বর্জনের ডাক দিয়ে অনন্য ঘুড়ি উৎসব
মলয় দে: ধর্মনগরী নদীয়ার অন্যতম প্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান শান্তিপুরে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। এই সব উৎসবের ভিড়েই মিশে রয়েছে অতি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। আর এই রথযাত্রা উপলক্ষে শান্তিপুরে ঘুড়ি ওড়ানোর বিশেষ রেওয়াজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। রথ থেকে সোজা উল্টো রথ পর্যন্ত সময়টায় এখানকার প্রতিটি বাড়িতেই ছোট-বড় সকলের হাতে ওঠে লাটাই আর ঘুড়ি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিপজ্জনক নাইলন তথা ‘চিনা মাঞ্জা’ সুতোর দাপটে কিছুটা হলেও উৎসাহ হারিয়েছিলেন প্রকৃত ঘুড়িপ্রেমীরা।
সেই হারিয়ে যাওয়া সাবেকি ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিল শান্তিপুরের একদল উদ্যমী যুবক। বর্তমানে ব্যস্ততার যুগে সাগু, খই বা কাঁচগুঁড়ো দিয়ে নিজের হাতে সুতোয় মাঞ্জা দেওয়ার সময় হয়তো সবার নেই, কিন্তু ক্ষতিকর চিনা সুতো ছেড়ে এই প্রজন্ম অন্তত পরিবেশবান্ধব সুতির মাঞ্জা সুতো ব্যবহার করুক— এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
সেই লক্ষ্যেই শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে ‘লাইব্রেরী বয়েজ’ নামক একটি যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতার। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের পর সাড়া মেলে অভাবনীয়! উদ্যোক্তারা যা কল্পনাও করতে পারেননি, তা-ই সত্যি হলো— দমদম, কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঘুড়িপ্রেমীরাও ছুটে এলেন শান্তিপুরের এই মাঠে। সাধারণ এক প্রতিযোগিতা যেন মুহূর্তেই পরিণত হলো এক রঙিন মিলনউৎসবে।
অংশগ্রহণকারী: মোট ২০ জন প্রতিযোগীকে লটারির মাধ্যমে ১০টি দলে ভাগ করা হয়।
নিয়ম: প্রতিযোগীদের নিজেদের আনা কাঁচের ঘুড়ি এবং সম্পূর্ণ সুতির মাঞ্জা সুতো ব্যবহার করে বিভিন্ন রাউন্ডে লড়াই করতে হয়। তবে যাঁদের কাছে সুতো ছিল না, তাঁদের জন্য সংস্থার তরফ থেকেও সুতির সুতো ও কাগজের ঘুড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
পুরস্কার: মোট পাঁচটি হাড্ডাহাড্ডি রাউন্ড খেলার পর ফাইনালে বিজয়ী (Winner) এবং বিজিতদের (Runner-up) ট্রফি ও বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়।
কলকাতা ও দমদম থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি সক্রিয়তার কারণে কলকাতায় নাইলন সুতোর দাপট অনেকটাই কমেছে। তবে কেবল পুলিশি নজরদারি নয়, সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতাই পারে এই মাঞ্জা সুতোর বিপদ থেকে পাখি ও পথচারীদের রক্ষা করতে।
প্রথম বছরের এই ব্যাপক সাফল্য ও উৎসাহ দেখে আপ্লুত আয়োজকরা। সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রথম বছরেই যেভাবে ঘুড়িপ্রেমীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে তাঁরা অনুপ্রাণিত। আগামী বছরগুলিতে এই প্রতিযোগিতার বহর আরও বাড়িয়ে চিনা সুতো বর্জনের সচেতনতামূলক বার্তা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
