শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অধিকার আদায়ে কৃষ্ণনগরে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের বিশাল জেলা সম্মেলন
সোশ্যাল বার্তা: শিক্ষার গুণগত বিকাশ, শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায় এবং সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে নদিয়া জেলায় এক নজিরবিহীন জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (বিদ্যালয় শিক্ষা)। কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই ঐতিহাসিক আয়োজনে জেলার ১৭টি ব্লক থেকে প্রায় হাজারের বেশি জন শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন।

বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, প্রদীপ প্রজ্বলন, সরস্বতী বন্দনা ও উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) বিভাগ কার্যবাহ ও বিভাগ প্রচারকের দিকনির্দেশনামূলক বার্তার পাশাপাশি সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রী কৌশিক চৌধুরীর উপস্থিতি। শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, শিক্ষানীতি ও শিক্ষক সমাজের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দফতর সর্বদা তৎপর।
উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট কেন্দ্রের সাংসদ শ্রী জগন্নাথ সরকার,কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক শ্রী তারক নাথ চ্যাটার্জী,কৃষ্ণনগর দক্ষিণ এর বিধায়ক শ্রী সাধন ঘোষ,কৃষ্ণগঞ্জ এর বিধায়ক শ্রী সুকান্ত বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা।

মঞ্চে সংগঠনের মূল আদর্শ ব্যাখ্যা করে এ বি আর এস এম-এর রাজ্য সভাপতি শ্রী আশীষ কুমার মন্ডল স্পষ্ট জানান, “এটি নিছক কোনো সংগঠন নয়, শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা ও অধিকারের বলিষ্ঠ প্রতীক।” ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শ্রী বাপি প্রামানিক শিক্ষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশের যুগ্ম সম্পাদক মাননীয় শ্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, নদিয়া জেলা সভাপতি শ্রী ভাস্কর ঘোষ, জেলা সম্পাদক শ্রী উজ্জ্বল কুমার সেন ও জেলা কোষাধ্যক্ষ শ্রী দিলীপ বিশ্বাস। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সভার সামনে পেশ করে নেতৃত্ব স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

সম্মেলনের মূল প্রস্তাবে শিক্ষকদের বদলি নীতি সরলীকরণ, ডিএ (DA) প্রদান, পুরনো পেনশন ও বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নতুন জেলা কমিটি ঘোষণার পর সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
