মলয় দে: নদিয়ার শান্তিপুরে যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিনব উদ্যোগ: অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ বাসে ক্যানসার স্ক্রিনিং ও রক্ত পরীক্ষা শিবির।
নদিয়া জেলার শান্তিপুর বড়বাজার যৌনপল্লির কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত হলো এক বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যানসার স্ক্রিনিং শিবির। ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’ (শান্তিপুর শাখা), ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন (IPHA), নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্যানসার হাসপাতাল (NCRI) এবং বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনের ১৯৯৫ ব্যাচের দাতব্য সংস্থা ‘বরানগর ৯৫-এর বন্ধুরা’—এই চার সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শিবিরে প্রায় ৫০ জন যৌনকর্মীর ডায়াবেটিস, জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি ও সি সহ বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর পাশাপাশি রোটারি ক্লাবের সহায়তায় আনা NCRI হাসপাতালের অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ বাসে প্রায় ৩০ জন মহিলার জরায়ুমুখ (সারভাইকাল), স্তন এবং ওরাল ক্যানসার স্ক্রিনিং ও প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) টেস্ট করা হয়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, গ্রামীণ ও মফস্সল অঞ্চলের যৌনপল্লিতে এই ধরনের অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ ক্যানসার বাসের মাধ্যমে স্ক্রিনিং পরিষেবা রাজ্যে একপ্রকার নজিরবিহীন।
দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সচিব বিশাখা লস্কর জানান, অনেক সময়ই আর্থিক অনটন বা সচেতনতার অভাবে যৌনকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে দামি পরীক্ষাগুলো করাতে পারেন না। তাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের দোরগোড়ায় এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে দুর্বারের ৫৪টি শাখায় প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংগঠন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।
ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সচিব তথা রাজ্য এইডস নিয়ন্ত্রণ সোসাইটির (WBSACS) জয়েন্ট ডিরেক্টর ড. সোমনাথ নস্কর বলেন, “নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (NCD) এবং বিশেষ করে নারীদের সারভাইকাল ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে এই যৌথ উদ্যোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিরাময় সম্ভব।”
NCRI হাসপাতালের চিকিৎসক ড. শুভাশিস দে জানান, “ভ্রাম্যমাণ বাসটিতে ম্যামোগ্রাফি, কলপোস্কোপি, চেস্ট এক্স-রে ও প্যাপ স্মিয়ারের সুবিধা রয়েছে। সংগৃহীত নমুনাগুলো কলকাতার গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হবে এবং কারও রিপোর্ট পজিটিভ বা সন্দেহজনক এলে তাঁকে উপযুক্ত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।”
‘বরানগর ৯৫-এর বন্ধুরা’ সংস্থার সম্পাদক কল্লোল ভট্টাচার্য জানান, এর আগে তাঁরা কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতা শিবির করলেও এবার প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন। শান্তিপুরের পর বসিরহাট ও কালনাতেও এই ধরনের স্বাস্থ্য শিবিরের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন মানবিক ও সুসংহত উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
