মলয় দে নদীয়া :- আজকের দিনে জগন্নাথ দেবের প্রথম শ্রীবিগ্রহ স্থাপিত হয়েছিলো শ্রীধাম পূরীতে। স্বভাবতই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার আগে অভিষেক পর্বে দধি দুগ্ধ মধু ঘি গঙ্গাজল বিপুল সংখ্যক ভক্তদের ঢালা স্নানযাত্রার পরে জ্বরে কাবু হয়ে পড়েন তিনি। গৃহবন্দি অবস্থায় ১৫ দিন পর্যন্ত বিশ্রাম নেন,তখন ভক্তবৃন্দরা দর্শন পাননা।এসময় মন্দিরের দরজা বন্ধ রেখে, বিভিন্ন পাচন এবং রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে পথ্য নিবেদিত হয় দরজার বাইরে। মুগডাল আলু ফুলকপির মতো বেশকিছু খাদ্যদ্রব্য ভারতীয় না হওয়ার নাপসন্দ জগন্নাথ দেবের। কালো সরিষা ,অড়হড়ের ডাল ভুনা খিচুড়ি, কচুর শাক, পাট পাতার বড়া, আম রস এ ধরনের সম্পূর্ণ দেশীয় খাদ্যদ্রবব্যতেই ভীষণ খুশি তিনি। সাজ পোশাক বসন ভূষণ সবকিছুতেই দেশীয় উৎপাদিত হওয়া দরকার।
ঠিক ১৫ দিন বাদে,তিনি সুস্থ হন এবং বলরাম সুভদ্রা কে নিয়ে রাজবেসে রথে চড়ে মাসির বাড়ি বেড়াতে যান। ভক্তবৃন্দ সারাবছর সান্নিধ্য না পেলেও, এদিন রথের রশি ধরে টানার সুযোগ পান জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল ভক্তবৃন্দ। যদিও পুরীতে , বাবাসাহেব আম্বেদকরের লাগাতার প্রতিবাদের ফলে সমস্ত ভক্তবৃন্দ তার সান্নিধ্য পেয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। শোনা যায় একসময় প্রধানমন্ত্রীকেও পর্যন্ত, জগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে হয়তো সেই কারণেই, ভক্তের মাঝে ভগবানের আবির্ভাবের এই দিনটি পতিতপাবন যাত্রা বলে আখ্যায়িত করেছেন ধার্মিকরা।
তবে মাসির বাড়ি যাওয়া চলতি কথায় সোজা রথ, এক সপ্তাহ বাদে ফিরে আসাকে উল্টোরথ বলে থাকেন সাধারণ ভক্তবৃন্দরা।
আমরা এমনই এক স্নানযাত্রায় উপস্থিত হয়েছিলাম নদীয়ার শান্তিপুর কলেজ মোড় নিবাসী ধ্রুবনারায়ন দেব গোস্বামীর বাড়িতে। আজ ধর্মীয় প্রচারে বাইরে থাকার কারণে তার কন্যা রাধিকা দেব গোস্বামী, বলেন সুবিশাল এই জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার মূর্তি আসলেও সারা ভারত কীর্তন ভক্তি গীতি শিল্পী সংসদের । কয়েক বছর আগে কলকাতা বাগবাজার থেকে রথযাত্রা শুরু হয়েছিলো। বছরের বাকি সময়ে থাকার জন্য জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব ঘটেছিলো শ্রীধাম শান্তিপুরে তাদের বাড়িতে।
করোনার কারণে দু বছর রথযাত্রা বন্ধ থাকলেও সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো রকম যোগাযোগ করেননি। তবে তিনি আশাবাদী এবারে নিশ্চয়ই আবারও আগের মতন কলকাতার রাজপথে দেখা যাবে জগন্নাথ দেবকে। তবে তাদের মন্দিরে জগন্নাথ দেবের নিত্যপূজা এবং বিশেষ উপাচার সম্পন্ন হয়ে আসছে অত্যান্ত নিয়ম নিষ্ঠাসহকারে জাঁকজমকভাবেই।