কেন্দ্রীয় ভাতা বন্ধ ! নদীয়ায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শৌর্য পদকপ্রাপ্ত মৎস্যজীবীর স্ত্রী

News

অঞ্জন শুকুল, নদীয়া: ১৯৬৬ সালে ভারত ও চীনের যুদ্ধের শুরুর প্রাক-সময়ে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ইছামতী নদীতে সেনাবাহিনীর একটি সশস্ত্র লঞ্চ ডুবে যায় ।সেই সময়ে লঞ্চটিতে সেনাবাহিনীর প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র গোলা বারুদ মজুত ছিল। সেনাবাহিনীর কর্নেল লঞ্চ উদ্ধার করার জন্য ইছামতী নদী এলাকার মৎস্যজীবীদের সন্ধান শুরু করেন ।যিনি নদীর প্রায় পঁয়ত্রিশ ফুট তলদেশ থেকে উক্ত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে দেবেন তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা করেন ।

অনেক মৎসজীবি থাকা সত্ত্বেও কেউ এগিয়ে আসেননি।কারন একেতে,ইছামতীর ভয়ানক অবস্থা ,তার উপর রাত্রী বেলা । এহেন অবস্থায় জীবনের ঝুকি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন নদীয়ার মাজদিয়ার নাগাদা এলাকার অসম সাহসী অতুল কুমার হালদার ।সেই সময়ে জলে ডুব দিয়ে তিনি সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন । সেনাবাহিনী তার সাহসিকতা দেখে ও সাহায্যে পেয়ে আপ্লুত হয়ে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দেন । এই অসম সাহসী মৎস্যজীবীকে শৌর্য পদক দেওয়া হোক পরবর্তীতে অতুল কুমার হালদারকে শৌর্য পদক দেওয়া হয় ও সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয় । কিন্তু অতুল বাবু চাকরি করতে রাজি হননি । পরিবর্তে ১০টাকা সাম্মানিক হিসাবে ভাতা দেওয়া শুরু হয় ।
তবে পরবর্তীতে অতুল হালদারের ভাতা বৃদ্ধি পায় । তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এক হাজার পাঁচশ টাকা করে সাম্মানিক ভাতা পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী গঙ্গা হালদার এই ভাতার অধিকারী হন ।

২০২০ পর্যন্ত এই ভাতা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বাৎসরিক বাহাত্তর হাজার টাকা পান গঙ্গা হালদার । কিন্তু এবছর দুর্ভাগ্যবশত দুই বার চিঠি ভারত সরকারের দপ্তরে পাঠিয়েও কোনো টাকা আজ পর্যন্ত আসেনি। এমতাবস্থায় গঙ্গা হালদার অত্যন্ত দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি জানান তার বাড়িঘর এখনো হয়নি পঞ্চায়েতের তরফ থেকে একটি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পেলে ভালো হয়। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কবে তাঁর ভাতার টাকা আসবে দিল্লি থেকে। এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও প্রাক্তন শিক্ষক অজিত গাঙ্গুলী বলেন যাদের পাকা বাড়ী রয়েছে তারাও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাচ্ছেন অথচ গঙ্গা হালদারের ভাঙাচোরা ঘর তবুও ঘর পাননি এটা বড় বেদনাদায়ক ।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে অনুরোধ অবিলম্বে প্রশাসন নজর দিক ওই পরিবারের ওপর । সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ অবিলম্বে প্রাপ্ ভাতা দেওয়া হোক । নাহলে খাওয়া বিনা হয়ত মারা যাবে গঙ্গা হালদার ।

Leave a Reply