কোভিড আক্রান্তদের পরিবারে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে কোলাঘাটের কোডিড কিচেন

Social

মদন মাইতি, পূর্ব মেদিনীপুরঃ আপনি কি করোনা আক্রান্ত? দুবেলা খাবারের সমস্যায় রয়েছেন? তাহলে কোলাঘাটের “কোডিড কিচেন” এ যোগাযোগ করলেই মিলবে বিনামূল্যে খাবার । করোনাকালে এমনই উদ্যোগ নিয়েছেন কোলাঘাটের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

কোভিড আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে লাঞ্চ ও ডিনারের ব্যবস্থা করেছেন কোলাঘাটের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত “কোভিড কিচেন”। কোলাঘাটের অলিতে গলিতে ৪৫ কোভিড আক্রান্তদের পরিবারের জন্য বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে।সবটাই করা হচ্ছে করোনা সুরক্ষাবিধি মাথায় রেখেই।

দেশের অন্যান্য শহরের মতো করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাঁপছে কোলাঘাটও। রোজই হু হু করে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বহু করোনা আক্রান্তই ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। করোনার জেরে খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে বহু করোনা আক্রান্তদের ঘরে। দু’বেলা ঠিকমতো খাবারের ব্যবস্থা করতেও অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সংকটকালে দাতার ভূমিকায় দেখা গেল কোলাঘাটের শহরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে। তারা করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে তৈরি করেছে “কোডিড কিচেন”। কোলাঘাটের প্রায় ৪৫ জন করোনা আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। মেনুতে রেয়েছে ডাল-ভাত-সব্জি-ডিমের ঝোল, রাতে রুটি সব্জি ইত‍্যাদি।

প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে কোলাঘাটের অবস্থাও সবথেকে বেশি আশঙ্কাজনক। প্রতি গ্রামের প্রায় সব পাড়াতেই কোভিড আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এপর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ১৭ জন। বেশকিছু আক্রন্ত রোগি যেমন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আবার বেশিরভাগই ঘরেই চিকিৎসাধীন। এমন কিছু পরিবার আছে, যাদের পরিবারে সবাই আক্রান্ত, আবার অনেক আক্রান্তের বাড়িতে এই অবস্থায় রান্না করাও সম্ভব নয়। এসব পরিবার গুলির কথা চিন্তা করে গত ৭ ই মে থেকে কোলাঘাট বাজারের এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি “কোভিড কিচেন” তৈরি করে আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গরম রান্না খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।

সংস্থার কর্মকর্তার ডাঃ শ‍্যামল আদক জানান,- এলাকার যত করোনা আক্রান্ত রোগি রেয়েছে তাদের যতদিন প্রয়োজন ততদিন পর্যন্ত এই পরিষেবা দেওয়া হবে ,আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব তা চালু রাখতে। কেবল এই উদ‍্যোগই নয় আমরা গত চোদ্দ মাস ধরে বহুমুখী কর্মসূচির মাধ‍্যমে মহামারি কবলিত মানুষের পাশেই আছি ও থাকব।
আমলহান্ডা, আশুরালী, বাড়বড়িশা গ্রামের এই পরিষেবা প্রাপ্ত করোনা আক্রান্তরা একবাক্যে জানিয়েছেন , পাড়ার অনেকে যখন করোনার ভয়ে কাঁপছে তখন এই পরিষেবা তাদের কেবল পেট ভরছে নয় তা নয়, মনেও সাহস ও সঞ্চার করছে।

Leave a Reply