দেবু সিংহ,মালদা: সংসারের অভাব দূর করতে দুই মাস দাদন চুক্তিতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেয় শ্রমিক। দাদনের দিন পূর্ণ হওয়ার আগে আগেই বাড়ি ফিরল পরিযায়ী শ্রমিকের কফিন বন্দী নিথর দেহ।ঘটনায় কান্নার রোল পরিবারে।
মালদহের চাঁচল-১ নং ব্লকের মতিহারপুর গ্রামে শ্রমিকের স্থায়ী ঠিকানা।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মৃত ওই শ্রমিকের নাম মাবুদ আলি(৪০) গ্রামে পানের দোকান করেই সংসার চালাত। মাঝে-মধ্যে গ্রামে ক্ষেতমজুরের কাজ করত। সংসারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে হায়দ্রাবাদে ষাট দিনের দাদন চুক্তিতে বিল্ডিং নির্মানের কাজে যায়। সেরকম ফোনে যোগাযোগ ছিল না পরিবারের সাথে। তবে স্ত্রী জসেদা বিবি জানালেন,এক সপ্তাহ আগে ফোন হয়েছিল।ওখানে নাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে শ্রমিকদের সাথে।তারপরে আর কোনো হদিস মেলেনি স্বামীর। তবে সোমবার বিকেলে খড়্গ পুর থেকে বার্তা আসে মাবুদ আলীর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে ট্রেনে।স্ত্রী জসেদা সহ পরিবারের লোকজন অভিযোগ ছুড়ছেন ঠিকাদার অর্জুন সিংহের দিকে।ঠিকাদার অর্জুন সিংহের বাড়ি মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশমাই গ্রামে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ,টাকা চাওয়াতে ঠিকাদার মারধর করে এবং প্রান বাঁচাতে বাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেন মাবুদ।হয়তো মারধরে আহত হয়ে রহস্যজনকভাবে প্রান হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন পরিবার।চাঁচল থানায় পুরো ঘটনার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্ত্রী জসেদা বিবি।ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশ জানিয়েছেন।কলকাতায় রেল পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত পাঠায়।তবে কিভাবে মারা গেল তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টই বলবে।
মৃত শ্রমিকের মা মাবুদা বিবি বলেন,
আমার ছেলের সাথে তেমন ফোনে কথা হয়নি।
ছেলেটা কিভাবে মারা গেল আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।বাবা নাসিরুদ্দিন বলেন,আমার ছেলে খরচের জন্য টাকা চাইছিল ঠিকাদারের কাছে।তবে টাকা না দিয়ে অত্যাচার করেছে ছেলেকে।এটার বিচার চাই।
অভাবের সংসার,ঘরে নেই মজুত টাকা।পরিবারে রয়েছে স্ত্রী জুবেদা বিবি দুই নাবালক সন্তান সহ বৃদ্ধ বাবা মা।উপার্জনশীল বলতে মাবুদই ছিল গোটা পরিবারের ভরসা।দেহ কিভাবে ফিরবে বাড়িতে বিপাকে পড়ে গোটা পরিবার।ঘটনার খবর শুনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমবেদনা জানাতে যায় মতিহারপুর অঞ্চল প্রধান পপি দাস,দলনেতা সাকিরুদ্দিন,মালদা জেলা টিএমসিপির সাধারণ সম্পাদক বাবু সরকার সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।অঞ্চল তৃণমূলের আর্থিক উদ্যোগেই কলকাতা থেকে গ্রামে দেহ আনা হয়েছে।পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব সহ অঞ্চল প্রধান।মতিহারপুর অঞ্চলের প্রধান পপি দাস জানিয়েছেন,মৃত শংসাপত্র হওয়ার পরেই তার স্ত্রীর বিধবা ভাতা, ও জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্পের আওতায় যেন আসে তা গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দা বাদল সেখ গোটা গ্রামবাসি ঠিকাদারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে।কারন ঘরে রয়েছে স্ত্রী সহ নাবালক এক কন্যা ও পুত্র সন্তান,বৃদ্ধ বাবা মা।গৃহকর্তা ফিরবে না তবুও এই অসহায় পরিবারটি ক্ষতিপূরণ পেলে হয়তো মৃদু স্বস্তি মিলবে তাদের।এখন অসহায় পরিবার সাহায্যের অপেক্ষায়।বুধবার সকালে গ্রামে ফিরেছে কফিন বন্দী দেহ।সকালেই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।