সোশ্যাল বার্তা : একদিকে দূষণ অপর দিকে এক শ্রেণীর মানুষের লোভ, লালসার জন্য নদী আজ মৃতপ্রায়। কৃষ্ণনগরের পাশের দুটি নদী জলঙ্গী এবং অঞ্জনা প্রায় মৃত। জলঙ্গী নদীর বর্তমান এমন অবস্থা দেখে মনে হয় এপার থেকে ওপারে কয়েক দিনের মধ্যেই মানুষ হেঁটে হেঁটে পার হবে। আর অঞ্জনা নদী সে তো অনেকদিন আগেই খালে পরিণত হয়েছে।
বহুদিন ধরেই জলঙ্গী নদীর দূষণ বন্ধ, নদীতে বাঁধাল তোলার ডাক দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের ‘জলঙ্গী নদী সমাজ’ নামে নদী নিয়ে কাজ করা সংস্থা। কিছুদিন আগেও এই সংস্থা কৃষ্ণনগর থেকে স্বরূপগঞ্জ ২৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বাঁধাল তোলার ডাক দিয়েছিলো তবে সব বাঁধাল না উঠলেও ৩ টে শেষ পর্যন্ত উঠে যায়।
এবার নদী বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ কৃষ্ণনগরের এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা । সাধারণ মানুষের মধ্যে নদী বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে রবিবার কৃষ্ণনগরের জলঙ্গি নদীর বিসর্জন ঘাট থেকে পানিনালা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। তবে সাড়ে ৬ কিলোমিটার পরেই ফাঁকা জায়গায় পদযাত্রা সমাপ্ত করা হয়। নদীর পাড়ে নৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পথিমধ্যে সাধারণ মানুষকে করা হয় নদী বিষয়ে সচেতনতা, রাস্তায় বিলি করা হয় লিফলেট।
জলঙ্গী নদী সমাজ এর ডাকে সাড়া দিয়ে পা মেলালেন বিভিন্ন সংগঠনের নদীপ্রেমী মানুষ। নদী বাঁচানোর বার্তা নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় হাঁটলেন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ প্রায় শতাধিক মানুষ। নদীয়া জেলার বাইরে থেকেও অনেকে সামিল হন এই কর্মসূচিতে।
জলঙ্গী নদী সমাজের পক্ষে অমিতাভ সেনগুপ্ত জানান “মানুষকে সচেতন করতেই মূলতঃ এই পদক্ষেপ, সকল রাজনৈতিক দলের কাছে ভোট ইশতেহারে নদীকে নিয়ে কি ভাবনা রয়েছে তা স্পষ্ট করে নির্বাচন এর ইশতেহারে লিখতে হবে। প্রশাসনের কাছে আবেদন জলঙ্গী নদীকে অবিরল বৈতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, মাঝি, জেলে সম্প্রদায়, প্রান্তিক চাষীদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে, নদী বাঁধাল, কোমর , চট জাল নিষিদ্ধ করতে হবে, রিভার গার্ড এর ব্যাবস্থা অবিলম্বে করতে হবে। এর আগেও আমরা প্রশাসন এর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং আজকের পদযাত্রায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড,পোষ্টারের মাধ্যমে সেগুলো কে আবার তুলে ধরা হলো”।
নদী বাঁচাতে আরও উদ্যোগ নিতে হবে নদীর পাড়ের সকল মানুষকেই এবং গড়ে চলতে হবে নদীর সঙ্গে সখ্যতা,তাহলেই বাঁচবে নদী।