করোনা যুদ্ধে লড়ছেন রায়গঞ্জের দুই কৃতি সন্তান

Social

রায়গঞ্জঃ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সব থেকে সামনের সারিতে থেকে যারা লড়াই করছেন তারা স্বাস্থ্যকর্মী । এর এবার করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জের দুই কৃতী সন্তান। তাঁরা দুজনেই চিকিৎসক। এখন ধ্যানজ্ঞান একটাই, করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলা।সারা পৃথিবী যখন কার্যত করোনা আতঙ্কে কাঁপছে, সেই সময় রায়গঞ্জের ওই দুই কৃতী সন্তান সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। রায়গঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন জেলা পরিষদের আবাসনে থাকেন মধুসূদন সিনহা ও কৃষ্ণা সিনহা।

মধুসূদনবাবু জেলা পরিষদে কর্মরত এবং কৃষ্ণাদেবী কর্মরত জেলা প্রশাসনিক ভবনে। তাঁদের দুই সন্তান পল্লব ও অর্ণব। দুজনেই চিকিৎসক।সিনহা দম্পতির বড় ছেলে পল্লব কলকাতার এসএসকেএমের চিকিৎসক এবং ছোটো ছেলে অর্ণব কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক। বড় ছেলে পল্লব বেলেঘাটা আইডিতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ছোটো ছেলে অর্ণব এখন বেলেঘাটা আইডিতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ছেলেরা এই মারণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন দেখে গর্বিত সিনহা দম্পতি। তবে মনের কোণে আতঙ্কও রয়ে গিয়েছে। লকডাউনের নির্দেশ জারি করা হয়েছে দেশজুড়ে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও। অনেক চিকিৎসক তাঁদের চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্ত রায়গঞ্জ শহরের সিনহা দম্পতি করোনা যুদ্ধে দুই সন্তানকেই সামনে দাড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে দেখে গর্ববোধ করছেন। সিনহা দম্পতি খুব কষ্ট করেই দুই ছেলেকে ডাক্তারি পড়িয়েছেন। বর্তমানে দুই ছেলেই চিকিৎসক। এখন দু’জনেরই ধ্যানজ্ঞান করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলা। লড়াই শেষ না করে রায়গঞ্জে আসতে পারবেন না বলে ছেলেরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেছেন মধুসূদনবাবু ও কৃষ্ণাদেবী। ছেলেদের কথা ভাবতেই পুরানো ফোটো অ্যালবাম দেখেন। আবার কখনও ফোনে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের স্বার্থে ছেলেরা সেবা দিচ্ছেন এই ভেবে মনকে সান্ত্বনা দেন কখনও। মধুসূদনবাবু বলেন, মানুষের সেবা করার জন্য ছেলেদের ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলাম। দেশের মানুষের এই চরম বিপদের সময় তারা চিকিৎসায় মগ্ন আছে। ছেলেদের এই কাজকে অবশ্যই কুর্নিশ জানাই। তাদের জন্য অবশ্যই গর্ব বোধ করি। তবে মাঝেমধ্যে চিন্তা হয় ওদের জন্য। ওরা দেশের মানুষের সেবা করছে এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দিই। সকলের শুভকামনাই ওদের রক্ষা করবে। সকলে সুস্থ থাকলে আমরাও ভালো থাকবো। রায়গঞ্জের পুরপতি সন্দীপ বিশ্বাস জানান, করোনা যুদ্ধে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওই পরিবার ও তাদের সন্তান আবার রায়গঞ্জ তথা জেলাকে গর্বিত করল। তারা যেভাবে সেবা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে ধন্যবাদ জানানোর কোনও ভাষা নেই আমাদের। আপামর শহরবাসী কুর্নিশ জানায় ওঁদের  ।

Leave a Reply