গুরু পূর্ণিমা ! গুরুর প্রতি ভক্তি জানাতে শিষ্যরা দেশ-বিদেশ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন

Social

মলয় দে নদীয়া:-পথপ্রদর্শক বা গুরু দু ধরনের হয়ে থাকে এক শিক্ষাগুরু এবং দ্বীতীয় দীক্ষাগুরু।

প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের মতানুযায়ী গুরূপূর্নিমাকে বেদ ব্যাসের জন্মতিথি হিসাবে ধরা হয় ।

বেদ ব্যাস ছিলেন ঋষি পরাশর ও মৎস্য গন্ধা সত্যবতীর জারজ সন্তান । জন্মের পর সত্যবতী তাকে পরিত্যাগ করলে সেই অবৈধ সন্তান সম্পাদনা করেন চতুর্বেদের ১৮ টি পুরান , রচনা করেন মহাভারত ও ভাগবত গীতা । ইনিই বেদব্যাস , এই তিথিতে ই জন্ম বেদব্যাস এর । অন্যদিকে হিন্দু পুরাণের বিবরণ অনুযায়ী আজকের দিনেই ভগবান শিব প্রথম গুরু হোয়েছিলেন তার যোগ বিদ্যা সপ্ত ঋষি — অত্রি , বিশিষ্ট, পূলহো, অঙ্গীরা , পুলোস্থ, মরিচি ও ক্রতুকে দান করে । তাই অনেকে এই দিনে আদি গুরু শিবের উপাসনাও করে থাকেন ।
অপরদিকে জৈন্যদের মতে তীর্থঙ্কর মহাবীরও গুরু পূর্ণিমার দিন গুরু হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেছিলেন । সেই কারণে জৈন্য ধর্মের মানুষেরাও এই দিনটিকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথেই পালন করেন ।

তবে প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেক্ষাপট পর্যন্ত গুরুপূর্ণমা কে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মন দের প্রভাব প্রতিপত্তি ও ঘনঘটা লক্ষ্য করা যায় । মহাভারতে গুরু দ্রোণাচার্যের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও , রাজনৈতিক চাতুরিতে একলব্যের বৃদ্ধাঙ্গুলি নিজের উপহার হিসাবে পকেটে ভরে বর্ণবৈষম্য , সাম্প্রদায়িকতা , হিনমন্যতা , সংকীর্ণতা , অর্থলোলুপতা ও কূটনীতিবাজের চরম নিদর্শন হিসাবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন ।
সময় এসেছে তুল্যমূল্য বিচার বিশ্লেষণ করার । বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুদেব সম্প্রদায় কি বুদ্ধদেব , মহাবীর ও বেদব্যাস এর পাথেয় ? না কি দ্রোণাচার্য পন্থী ? গুরুপূর্নিমার আবহে যে সকল পরম পুজনীয় শ্রদ্ধেয় গুরুদেব মন্ডলী ভক্তদের উপ ঢৌকনে আহ্লাদিত হলেন , তারা কি করোনা ও আম্পানের প্রেক্ষাপটে দরিদ্র শিষ্যদের মধ্যাননো ভোজন সংক্রান্ত খবরাখবর নিয়েছেন ? প্রত্যেক শিক্ষাতেই গুরুর আবশ্যিকতা রয়েছে আজও। কিন্তু শিষ্যরা, কতটুকু উপলব্ধি করে সন্মান প্রদর্শন করছেন সেটাই প্রশ্ন। অন্যদিকে জ্ঞানের ভান্ডার উজাড় করে শিষ্যকে উপযুক্ত শিষ্য বানানোর প্রয়াস কি অব্যাহত রয়েছে আজও?

প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে ।তবে ধর্মীয় গুরুদের প্রতি ভক্তি কিছুটা অটুট থাকলেও, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, বইয়ের পাতাতেই। চাওয়া পাওয়ার ভিত্তিতে রাজনৈতিক গুরু নিত্য অহরহ পরিবর্তনশীল। সবচেয়ে বড় গুরু জন্মদাতা পিতা মাতা, বৃদ্ধকালে তাদের ঠাই হয় বৃদ্ধাশ্রমে। ধর্মপ্রাণ নদীয়ার পূণ্যভূমি শান্তিপুরে বিভিন্ন বিগ্রহ বাড়িতে আজও চলে দীক্ষাদান পর্ব। গুরুর প্রতি ভক্তি জানাতে শিষ্যরা দেশ-বিদেশ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

নদীয়ার শান্তিপুর বাইগাছি পাড়া রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সেবাইত শচীনন্দন দাস মহারাজ শোনালেন এই দিনের বিশেষ তাৎপর্য। তিনি তার মন্দিরে ব্রহ্মচার্য্য পালন করা এবং ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা ১৩ জন শিষ্যকে ব্রহ্মচর্য্য পালন করিয়েছেন। যার মধ্যে তিনজনকে সন্ন্যাস গ্রহণ করাতে পেরেছেন এখনো পর্যন্ত।

Leave a Reply