রথের মেলার আনন্দ উপভোগ করাতে গৃহবন্দী বিশেষভাবে সক্ষমদের উন্মুক্ত করলো সামাজিক সংগঠন সংকল্প

Social

মলয় দে নদীয়া :-আজ উল্টো রথের মেলা। ছোট বড় মাঝারি নানান ধরনের মেলায় হাজার হাজার লোকের সমাগম। তবে এমনও বেশ কিছু মানুষ আছেন যারা এই লাল নীল হলুদ সবুজের মেলায় ব্রাত্য হয়ে বন্দি থাকেন চার দেওয়ালের মধ্যে। মেলার গল্প শোনেন, তবে তার স্বাদ উপভোগ করতে পারেননি কোনোদিন। কারণ তারা বিশেষভাবে সক্ষম, অভাবী পরিবারের সদস্যরা দুবেলা দুমুঠো অন্ন যোগাড় করতে হিমশিম খান, তাই ফুরসৎ মেলেনা, মানসিকভাবেও মেলায় নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি থাকেনা।

ওঁরা কেউ কানে শুনতে পান না সাথে কথাও বলতে পারেন না, কিন্তু মেলার রঙিন ছবি দেখতে চান।
ওঁরা কেউ কেউ হাটতে চলতে পারেন না, তবে হুইল চেয়ার অথবা ট্রাই সাইকেলে বসে মেলা দেখতে চান।
ওঁরা অনেকে দৃষ্টিহীন , চোখে দেখতে না পারলেও মেলার বিভিন্ন ধরনের শব্দ তাদের মনের গ্লানি কাটিয়ে কিছুটা আনন্দ দিতে পারে। কিন্তু নিয়ে যাবে কে?

নদীয়া জেলার শান্তিপুরের সামাজিক সংগঠন সংকল্পের পক্ষ থেকে এমনই ১৭ জন বিভিন্ন ধরনের বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকে নিয়ে আজ উল্টো রথের মেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন বেড়াতে। বাচ্চা বুড়ো সকলেই মিলেমিশে এক, খাওয়ালেন পাঁপড় ভাজা জিলিপি, আইসক্রিম আরো কত কি! শিশুদের কিনে দিলেন খেলনা।
জানালেন ধর্ম যার যার উৎসব সকলের। আর সেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ সফল হয় যখন তা সকলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যায়। প্রতিবছরেই সদস্যরা মেলায় আসেন বন্ধুদের সাথে তবে এবার, কারোর দায়িত্ব নিয়ে, তাকে খুশি করতে পেরে তারা গর্বিত। তারা জানায়, সামাজিক বিভিন্ন দায়িত্ব পূরণের সংকল্প গ্রহণ করেছিল বেশ কিছু বছর আগে, তাই সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছিল সংকল্প। এভাবেই সমাজের পিছিয়ে পড়াদের মূল স্তরে আনতে পেরে, তারা আরো উৎসাহিত।

অন্যদিকে বিশেষভাবে সক্ষমরা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে না পারলেও, তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন, উচ্ছাস ভরা মুখ বুঝিয়ে দিয়েছিলো, সকলেরই মন আছে। যা কোনভাবেই প্রতিবন্ধকতা যুক্ত নয়।

Leave a Reply