সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উপার্জনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে শান্তিপুরের কাকন

Social

মলয় দে নদীয়া :-প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই নানাবিধ কারণে অলঙ্কার ব্যবহূত হয়ে আসছে। নন্দনতাত্ত্বিক বা মোহনীয় সৌন্দর্য বাদ দিলেও অলঙ্কার সঞ্চয়ের প্রতিরূপ, মর্যাদার প্রতীক, আত্মস্বরূপ ও প্রত্যয়ের ধারক।বঙ্গীয় অলঙ্কারকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে: খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ; ১২০০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ; ১৭৫০-১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ এবং ১৯৫০-২০০০ খ্রিস্টাব্দ।উপমহাদেশে খ্রিস্টপূর্ব চার হাজার বছর আগে অলঙ্কার ব্যবহারের কথা জানা যায়। সিন্ধুবিধৌত অঞ্চলে খননকার্যের ফলে তাম্র, রৌপ্য ও স্বর্ণের অলঙ্কারের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ধাতু বা মূল্যবান পাথরে মন্ডিত চুলের কাঁটা, কানের দুল, গলার হার, চুড়ি, আঙটি ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। পুঁতির অলঙ্কারও সম্ভবত জনপ্রিয় ছিলো। বিভিন্ন পশু পক্ষীর হাড়, পালক, প্রাকৃতিক রংবেরঙের আকর্ষণীয় পাথর সে সময় ব্যবহার হতো অলংকার হিসেবে। তবে সভ্যতার সাথে সাথে বিভিন্ন ধাতুতে বদল হয়েছিলো। সোনা রুপা ইউরেনিয়াম এর মতন মূল্যবান আজও সমান চাহিদা তবে। নারকোলের মালা, কাপড়, পোড়ামাটি এ ধরনের নানান উপকরণের উপর শিল্পকর্ম বর্তমানে খুবই চাহিদা।

তবে নদীয়ার শান্তিপুরের কাকন দত্ত, এম সিল নামক এক উপাদান দিয়ে, তার ওপর কখনো রং তুলি কখনো, উল বা কাপড়ের ওপর সূঁচসুতো, এবং গৃহস্থলীর বিভিন্ন পরিত্যক্ত উপাদান দিয়ে বানাচ্ছেন অসাধারণ অলংকার। তার কথায় মাটির অলংকার দেহের ঘামের সংস্পর্শে অথবা সামান্য বৃষ্টি তে নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি অল্প আঘাতেই তা ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। তবে এই উপাদান টি অনেকটাই আঘাত সহনশীল এবং বহুদিন রংয়ের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকা এবং শিল্পকর্মে আগ্রহর কারণে এ ধরনের নানা কিছু বানালেও ২০২০ সালে স্নাতক হওয়ার পর সমপূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বানানো শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে পেশায় চিকিৎসক তার এক পিসি মূল্যবান সময় দিয়ে তাকে নানান ভাবে সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকে।

বাবার অসুস্থতার কারণে, ছোট কাপড়ের ব্যবসা সামলাচ্ছে তার দাদা, মা সেলায়ের মাধ্যমে উপার্জন করে সংসারে সহযোগিতা করেন। তবে কাকন নিজের খরচ তো বটেই, সংসারের গুরু দায়িত্ব পালন করতেও প্রস্তুত। তার ইচ্ছা আগামীতে একটি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে যুবক যুবতীদের নতুন কাজের দিশা দেখাতে।  নতুন শাড়ি বা ড্রেস মেটেরিয়াল এর সাথে অলংকার বানাতে, অগ্রিম অর্ডার দিচ্ছেন মহিলারা। আর তাই প্রস্তুত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। শিল্পের প্রতীক মনোযোগী এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই যে একজন উদ্যোগী স্বাবলম্বী হতে পারে তা সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করে সে।

Leave a Reply