মলয় দে নদীয়া:-জন্মদাত্রী মা ক্যান্সারে আক্রান্ত, বাবা বয়স জনিত কারণে বেরোজগারে,সংসারের হাল ধরতে ২০১৪ সালে স্নাতকত্তর পড়াশোনা না করেই একমাত্র উপার্জনকরী হিসাবে শান্তিপুর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাহা পাড়া স্ট্রিটের বাসিন্দা শুভজিৎ দে বেছে নিয়েছিলো আঁকা এবং পড়ানোর টিউশনের পথ।মা ছন্দা দে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত।অভাবী পরিবারে মায়ের চিকিৎসার খরচ যোগাতে, মৃন্ময়ী মায়ের মূর্তি বানানো শুরু করে শুভজিৎ। যদিও তার পরিবারে, কেউ কখনো মূর্তি বানানোর কাজ করেনি, প্রচলিতভাবে কুম্ভকার ঘরের সন্তান নয় সে, বরং পরিবারের তিনশ বছরের প্রাচীন কালীপুজো ৩০-৪০ বছর যাবত বন্ধ হয়ে থাকার পর শুভজিতের হাতে তৈরি মূর্তিতে আবারো পুজো শুরু হয়েছে গত দু’বছর যাবত।
ছোটবেলা থেকেই মায়ের মাখা আটা, উঠোনের মাটি নিয়ে ছোটখাটো মূর্তি বাড়ানোর চেষ্টা করত, অর্থাভাবে কোনদিনই তা নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাইনি সে। স্ত্রী মমতা দে র সহযোগিতায় সোশ্যাল মিডিয়াতে ভর করে, গত দুবছর যাবত বেশ কয়েকটি মিনি আর্মেচার দূর্গা কালি এবং অন্যান প্রতিমা বানিয়ে অর্থ রোজগারের সুলুক সন্ধান পেয়েছে । তার তৈরি মূর্তি সুদূর কানাডা পৌঁছেছিল গত বছর, এ ধরনের মূর্তি বিসর্জন না হওয়ার কারণে রোজগারে বেশ খানিকটা ভাটা পড়ে। এবছরে কলকাতায় তিনটি এবং শান্তিপুর একটি অর্ডার পেয়েছে। কাচের বাক্সে প্যাকিং হয়ে গতকাল কলকাতায় গেল এমন একটি দুর্গা প্রতিমা।