মলয় দে নদীয়া:- করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চরম সংকটময় মুহূর্তে বেরোজগার পরিবারে সবচেয়ে বড় চিন্তা তার বাড়িতে যদি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কেউ থেকে থাকেন! পুলিশ ,স্বাস্থ্যকর্মী ,প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী এবং শিশুদের মায়েরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পরিবহনকর্মী, ফেরিওয়ালা হকার দোকানদার প্রত্যেকেই বিশেষ ক্যাটেগরী ভিত্তিক ভ্যাকসিন পেয়েছে, ব্রাত্য ছিল শুধু প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষ । যদিও তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে হয় খুব কম! তবুও তাদের শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিষেধক ক্ষমতা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতন নয়, তাই তাদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন শান্তিপুরের বিশেষভাবে সক্ষম দের সংগঠনের সভাপতি সুজন দত্ত।
প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে, প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু কাতর ভাবে প্রার্থনা করেছিলেন ভ্যাকসিনের জন্য। হয়তো চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় হয়নি তাদের। কিন্তু শান্তিপুরের পৌরসভার নবনির্বাচিত পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্যগণ এবং চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ সহকারি চেয়ারম্যান শুভজিৎ দে তাদের মহানুভবতায় এবং দূরদর্শীতায় ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করলেন আজ।
শান্তিপুর শহরের ৭৫ জন বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকে প্রথম ডোজের প্রতিষেধক পেয়ে খুশি বিশেষভাবে সক্ষমরা। আজ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিষেধকের এই ব্যবস্থার বিশেষ নজর দিতে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল সুপারেন্টেন্ড ডক্টর তারক বর্মন এবং শান্তিপুর থানার ওসি লালটু ঘোষ।
পৌর প্রশাসক সুব্রত ঘোষ জানান, সংগঠনের সাথে কথা বলে একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিলাম, আগামীতে আরো দুদিন এই পরিমান প্রতিষেধক ব্যবস্থা করতে পারলে ১০০ শতাংশ ভ্যাকসিনের দিকে এগোতে পারবে পৌরসভা। তবে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত বেশকিছু মানুষ আছেন যাদের বাড়িতে গিয়ে ভ্যাকসিন এর ব্যবস্থা করেছি জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে।
সংগঠনের সভাপতি সুজন দত্ত জানান, শান্তিপুর পৌরসভার তৎপরতায় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সহযোগিতায় খুশি আমরা! আগামীতে পৌরসভার উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি, সাথে শান্তিপুর থানার পুলিশ প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরও। আগামীতে আরও দুই ধাপে শহরের প্রতিষেধক টিকা করন শেষ হলে, ব্লকে টিকা করনের জন্য তালিকা প্রস্তুত করছি। এ বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রিনা প্রামাণিক এবং বিপিএইচসি আধিকারিক ডক্টর পূজা মৈত্রর সাথে কথা হয়েছে।