মলয় দে, নদীয়া:-:- বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল প্রাকৃতিক উপাদান একসময় নিঃশেষিত হবে! একমাত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে সৌর শক্তি বাদে। ১৯৪৬ সালে রাসেল ওহম ভবিষ্যতের অবশ্যম্ভাবী এই বাস্তব অনুভব করে সৌর কোষ আবিষ্কার করেন। তবে তখন অবশ্য ট্রানজিস্টারের উন্নতি সাধারণকে তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আধুনিক সৌরকোষ প্রযুক্তির জন্ম ১৯৫৬ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরীতে। প্রথমে ইনস্টলেশন চার্জ একটু বেশি হলেও, পরবর্তীতে খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই সারা পৃথিবীব্যাপী ব্যক্তিগত সৌর বিদ্যুতের অপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে। তবে ভারত আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সেইমত নানান সরকারি পরিকল্পনামাফিক, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং সরকারি দপ্তরে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
আজ নদীয়ার আসাননগর মদনমোহন তর্কালঙ্কার মহাবিদ্যালয়ে ৬২ টি প্যানেল যুক্ত প্রায় ছয় হাজার স্কয়ার ফিট জায়গার উপরে এই সোলার প্যানেলটি স্থাপন করা হয়। কলেজ সূত্রে জানা যায়, এ ব্যবস্থা থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
২০১৮ সালে তৎকালীন বিধায়ক অবনী মোহন জোয়ারদারের উদ্যোগে বিষয়টি সূচনা হয়। বর্তমান কলেজ অধ্যক্ষ ড: অশোক কুমার দাস এই কলেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন। মূলত তিনি এবং এই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা করিমপুর এর বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়ের প্রচেষ্টায় প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হয়।
এই প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ জানান, একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে অন্যদিকে, কলেজে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌর বিদ্যুৎ ,বিদ্যুৎ দপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে, জনসাধারণের মাঝে আগামীতে চিরাচরিত সৌরশক্তির ব্যবহার সম্পর্কে একটা বার্তা পৌঁছাবে।
কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি জানান, এর থেকে প্রতিবছর দু’লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে।