চাঁদ সওদাগরের হাতের সৃষ্ট নদীয়ার রানাঘাটের শীতলা মায়ের পুজো কাহিনী ! 

Social

মলয় দে নদীয়া :- নদীয়ার রানাঘাটের হবিবপুর পুরাতন বাজারের প্রাচীন ও ঐতিহ্য জাগ্রত শীতলা মায়ের পুজো আনুমানিক ৪০০ বছরের প্রাচীন তাকে ঘিরে ১০ দিন ধরে উৎসব মেলা অনুষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তদের ঢল।

কথিত আছে বট বৃক্ষের পাশ দিয়ে গঙ্গা নদীর প্রবাহিত ছিল কোনো এক সময় বনিক চাঁদ সদাগর বাণিজ্য করতে গিয়ে এই স্থানে বটো বৃক্ষ নিজে পূজা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি শীতলা মায়ের বিভিন্ন সৃষ্টি ও আবিষ্কারের বিভিন্ন মতবাদ আছে এখানে আগে একজন অবাঙালি সাধুঁ থাকত তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিল মায়েরা ৭ বোন মায়েরা এই বট বৃক্ষে অবস্থান করে আছেন আজও সাধারণ মানুষের ধারণা বিশ্বাস, এই বট গাছে অবস্থান করে আছেন লোক মূখে শোনা যায় অনেক ভক্তকে মা দেখা দিয়েছেন
এখানকার শীতলা মা শুধুমাত্র একটা বট বৃক্ষে পূজিত হয়ে আসছে ৪০০ বছর ধরে। শুধুমাত্র একটি বট গাছকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস ,ভরসা, কৌতুহল ও বিভিন্ন মতবাদ এই বট বৃক্ষটি শীতলা দেবী হিসেবে পূজিত হচ্ছে।

মা শীতলা দেবী এতই জাগ্রত যারা মায়ের কাছে আসেন বা পুজো দেন তারা উপলব্ধি করতে পারেন এই দেবীকে ভক্তিভরে ডাকলে মা ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরন করেন এবং অনেকের মনোবাঞ্ছা পূরন হলে তাদের ওজনে বাতাসা ছিটান ভক্তরা। প্রায় প্রতিদিনই হরিনাম সংকীর্তন করা হয় এই পুজো উপলক্ষে। এবং এই কদিনে কয়েক টন বাতাসা ছিটানো হয় ভক্তদের মাঝে।

 

সোমবার হয়েছে অধিবাস। পুজোর দিন নিয়ম অনুযায়ী ভোরবেলা মাকে ১০৮ কলশি গঙ্গার জল দিয়ে মাকে স্নান করানো হয়, তাই প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্তদের দেখা যায় ১৪ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করে শান্তিপুর থানার অন্তর্গত কুমলে গঙ্গার থেকে জল নিয়ে এসে মাকে স্নান করানো হয়। রাত্রে মাকে গঙ্গাজল দিয়ে করানো হয় স্নান। এরপর মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে যায় মায়ের পুজো। ১০ দিন ধরে চলবে এই উৎসব।

শুধু হবিবপুর গ্রামের মানুষ এই পুজোতে সামিল হোন তা কিন্তু নয়, রাজ্যর বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের ঢল নামে এখানে। হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম ঘটে পুজো দিতে। পুজোর দিন সকাল থেকে বিরাট লম্বা লাইন পড়ে। ভক্তরা ডালা সাজিয়ে অনেন ডাবের জল, গঙ্গার জল, দুধ ,আলতা, সিঁদুর ফল, ফুল নিয়ে এসে মায়ের কাছে ভক্তি ভরে পুজো দেন মহা সমারোহে। অঞ্জলীর পরে করা হয় বিশেষ হোম যজ্ঞ।

পাশাপাশি পতিদিন ২ হাজারের অধিক ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা এবং এই প্রসাদের দায়িত্ব প্রতিদিন কোন না কোন ভক্ত মায়ের কাছে পূর্বে কোন একদিন মনস্কামনা করেন এবং তাদের মনোবাঞ্ছা পূরন হয়ে গেলে সেই ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিজ খরচে ভক্তদের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রসাদ খাওয়ানো দায়িত্ব নেন।

১০ দিন ব্যাপী এই উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় পুজোর আগের দিন অধিবাস থেকে শুরু করে পুজোর দিন সকালে চন্ডী পাঠের শেষে শুরু হয় অষ্টপ্রহর সংকীর্তন। এইভাবেই ৬ দিন ধরে অষ্ট প্রহর নামনাম সংকীর্তন এবং দুই দিন লীলা কীর্তন চলে, লীলা কীর্তনে সূর্য পুজো শেষে সারারাত রাসনীলা কীর্তন হয়, তারপর শেষের সবাই বেরিয়ে পরে নগর পরিক্রমা করতে। এরপর মালসা ভোগ মহোৎসব খিচুড়ি প্রসাদ বিতরনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় এই দশদিনের উৎসব।

Leave a Reply