বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা দেখতে এবার বাংলাদেশ ঘুরে এলেন নদীয়ার কৃষি বিশেষজ্ঞরা

Social

মলয় দে নদীয়া :-ভারত , বাংলাদেশ ও জাপানের কিছু কৃষিবিজ্ঞানী রা গত একুশে জুলাই ২০২৩ এসেছিলেন নদীয়ার শান্তিপুরে।

শান্তিপুরের বিষমুক্ত খাদ্য বাজার, কৃষক স্বরাজ সমিতির আন্দোলন, বেশ কিছু কৃষকের দেশীয় বীজে রাসায়নিক বর্জিত জৈব সারে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ এদেশে কিভাবে হচ্ছে তা মূলত পর্যবেক্ষণ করতেই তাদের আসা। শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, ব্লকের বাগআঁচড়ায় সৌর চালিত পাম্পে সেচ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন তারা।
বিষমুক্ত খাদ্য বাজারে, এসে ক্রেতাদের সাথে কথা বলেন নানান সুবিধা অসুবিধা নিয়ে। কৃষাণ স্বরাজ সমিতির বিভিন্ন কৃষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন তাদের দেশের চাষ এবং এ দেশের চাষের মধ্যে বিভিন্ন বৈষম্য নিয়ে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদান প্রদান করেন নিজেদের মধ্যে। সরকারি ভূমিকা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতা নিয়েও আলাপচারিতা হয় নিজেদের মধ্যে।
শান্তিপুরে সেঁজুতি প্রকৃতি বিদ্যাশ্রম পরিচালিত শিশুকিশোর গ্রন্থাগারও ঘুরে দেখেন তারা শিশুরাও প্রকৃতির পাঠে কেমন সুশিক্ষিত হয়েছে তাও কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে আলোচিত হয়।

তাদেরই আমন্ত্রণে এবার নদীয়ার বেশ কিছু কৃষি বিশেষজ্ঞরা ঘুরে এলেন বাংলাদেশ থেকে । শান্তিপুর থেকে কৃষাণ স্বরাজ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা শৈলেন চন্ডী ফিরে এসে আমাদের জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।
তিনি বলেন সারা বিশ্ব জুড়ে আবহাওয়ার সাথে ভৌগোলিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে আর তার সাথে খাপ খাইয়ে উঠতে না পারলে কৃষিতে অনাগ্রহ তৈরি হবে দীর্ঘদিনের চাষীদের অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম নানান রকম পেশায় যুক্ত হলেও কৃষিকাজে এগিয়ে আসবে না । অন্যদিকে সামান্য একটি অংশের মানুষজন কৃষিকাজের সাথে যুক্ত আর তার ফলেই সমগ্র সমাজ নির্ভরশীল খাদ্যের বিষয়ে, সেক্ষেত্রে একটি সংকট দেখা দিতে পারে। আবার যারা চাষ করছেন তারাও অল্প দিনে বেশি ফলনের জন্য দিনের পর দিন ব্যবহার করে চলেছেন কীটনাশক রাসায়নিক সার হাইব্রিড বীজ ফলে খাদ্য খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষজন, জমি হারাচ্ছে তার নিজস্ব উর্বরতা, মাটি কিংবা পুকুরের জল হয়ে উঠছে বিষাক্ত। তাই দেশীয় বীজ দেশীয় পদ্ধতিতে কেমিক্যাল এবং রাসায়নিক বাদ দিয়ে জৈব সার দিয়ে চাষ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে শান্তিপুরে গড়ে ওঠা বিষমুক্ত খাদ্য বাজারে দিনের পর দিন ক্রেতাদের ভিড় দেখলে বোঝা যায় ছোট্ট একটি অংশ হলেও সচেতন নাগরিক আছেন অনেকেই তবে এক্ষেত্রে কৃষকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ক্রেতাদের প্রয়োজন মাফিক ফসল উৎপাদন করতে সরকারি সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যে এই যোগাযোগের ফলে জাপানের একটি নতুন প্রজেক্ট কার্যকর হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। তার ফলে কিছুটা হলেও জৈব চাষ প্রচার এবং প্রসার ঘটবে তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সহ সরকারের সদর্থক ভূমিকা দরকার আরো।

Leave a Reply