মলয় দে নদীয়া:-সামনেই রঙের উৎসব হোলি উৎসব । আর তাই গোটা দেশবাসী মেতে উঠবে আবির খেলায় । তবে বাজারে আর পাঁচটা যা আবির বিক্রি হয় তাতে কখনো চুন কখনো বা চকের গুলোর সাথে মেশানো হয় কেমিকেল মিশ্রিত রং যা শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর সাথে মহিলাদের ত্বকেরও। বিভিন্ন চর্ম চিকিৎসকদের মতে কেমিক্যাল মিশ্রিত রং আবির চোখে কিংবা মুখে গেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতি হয় অনেকটাই।
তবে পরিবেশের কথা মাথায় রেখেও ব্যবসা করা যায় সেই নজির সৃষ্টি করলেন শান্তিপুরের কৃষাণ স্বরাজ সমিতির মহিলা সদস্যরা তারা বিগত চার বছর ধরে প্রতিবছর দোলের সময় বানিয়ে থাকেন ভেষজ আবীর যা ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দামে কিছুটা বেশি হলেও পরিমাণ কমিয়ে শিশুর অভিভাবকরা শিশুদের স্বাস্থ্য কথা মাথায় রেখে ক্রমশ ঝুঁকছেন এই ভেষজ আবিরের দিকেই। অন্যদিকে ত্বকের পরিচর্যা নিয়ে সর্বদা সচেতন থাকা মহিলারাও ভেষজ আবির কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নদীয়ার শান্তিপুরের পরিবেশপ্রেমী এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় প্রযুক্তিতে জৈব সার ব্যবহার করে দেশী বীজের মাধ্যমে চাষের আন্দোলন গড়ে তোলা শৈলেন চন্ডী গড়ে তুলেছিলেন কৃষাণ স্বরাজ সমিতি। সংগঠনের মহিলাদের সদস্যদের দিয়েই এই ভেষজ আবীর তৈরি করিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ একমাস কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এই আবির প্রস্তুত করতে হয় বলেই জানান শৈলেন বাবু। এ বছর জবা ফুল সহ বেশ কিছু লাল রঙের ফুল থেকে লাল সূর্যমুখী কলকে এ ধরনের হলুদ ফুল থেকে হলুদ, পুঁইমিচুরি থেকে রানী কালার,
নীলকন্ঠ ফুল থেকে নীল, সিমসহ বিভিন্ন পাতা থেকে সবুজ এই আপাতত ৫ রংয়ের প্রায় দেড় কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করিয়েছেন এবারের জন্য । যা প্রথমবার কুড়ি কেজির থেকে অনেকটাই বেশি।যদিও তিনি আক্ষেপ করে বলেন , সচেতন নাগরিক সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসলেও ,এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সরকারিভাবে সাহায্যর হাত বাড়াতে দেখা যায়নি এখনো। সরকার যদি এ বিষয়ে সুনজর দেন তাহলে বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভেষজ আবির উৎপাদন অনেকটাই বাড়বে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসবে দাম । তবে এক দুশো টাকা প্রতি কেজি বাজার চলতি চকের গুঁড়ো কিংবা চুন দিয়ে তৈরি আবির অত্যন্ত ক্ষতিকর, তারা ব্যবহার করছেন ভুট্টার মিহি পাউডার, প্রাকৃতিক রং তাই শিশুর চোখে কিংবা মুখের ভেতরে গেলেও কোনো ক্ষতি হবে না।
অপরদিকে গৃহিণীরা জানাচ্ছেন, সারাদিন সংসারের সমস্ত কাজ মিটিয়ে ফাঁকা সময়ে ,এই আবির তৈরিতে তারা কাজ করেন। মেলে কিছু পারিশ্রমিকও। ১০০ গ্রামে ৩ টাকা করে মজুরি পান প্রত্যেক মহিলারা ।আর এই আবির পাইকারি ২৫০ টাকা প্রতি কেজি এবং খুচরা ৩০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম প্যাকেট দুটি ভাবেই বিক্রয় হচ্ছে ।