মলয় দে নদীয়া :-নদীয়া জেলার গর্ব অমর বিপ্লবী অমর শহীদ বসন্ত বিশ্বাস, তার জন্মদিন আজকের দিনে। কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উষাগ্রামে একটি গ্যালারি উদ্বোধন হল। নদীয়া জেলার যে সমস্ত বিপ্লবীরা ছিলেন তাদের ছবি দিয়ে এই গ্যালারির উদ্বোধন করা হল মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।
উষাগ্রাম লোক শিক্ষা নিকেতন উদ্যোগে আয়োজিত করা হয় সারাদিন ব্যাপী এক অনুষ্ঠানের। স্বাধীনতা আন্দোলনে নদীয়া জেলার অনেক ঐতিহ্য ছিল তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে ইতিহাস কে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে গ্যালারির উদ্বোধন করা হয়েছে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে।
এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ডক্টর অনির্বাণ গাঙ্গুলী, সম্পাদক দীপঙ্কর দেবনাথ, শিবনাথ চৌধুরী, ডক্টর শুভাশিস বিশ্বাস কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অধ্যাপক বিপ্লব দাশগুপ্ত ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশরা যখন মনস্থির করে দেশের রাজধানী কলকাতা থেকে স্থানান্তরিত করে দিল্লিতে নিয়ে যাবে তখন প্রবলভাবে এর বিরোধিতা করেছিলেন বাংলার বিপ্লবীরা। অরবিন্দ ঘোষ, রাসবিহারী বসুর মতো বিপ্লবীদের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বহু তরুণ।
তেমনই এক তরুণ বিপ্লবী নদিয়া জেলার পোড়াগাছা গ্রাম থেকে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। যাঁর নাম বসন্ত কুমার বিশ্বাস । মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদান করেন। রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বেই তিনি হত্যার চেষ্টা করেন লাটসাহেব লর্ড হার্ডিঞ্জকে। কিন্তু সেই চেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হন। ধরা পড়েন ব্রিটিশ পুলিশের কাছে। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর ফাঁসির শাস্তি ঘোষণা করেন। যদিও রাসবিহারী বসু জাপানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দায়িত্ব তুলে দেন এই বসন্ত বিশ্বাসের পরিবেশের মতন তরুণ বিপ্লবীদের দেখে।
যদিও এই ঊষাগ্রামে আগে সেলুলার জেলবন্দি বিপ্লবীদের একটি গ্যালারি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্যালারি এবার যেটা হল সেটা তৎকালীন নদীয়ার বিভিন্ন ঘটনাবলী ছবি অংকনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন শহীদ এবং বিপ্লবীদের পরিচিতির জন্য একটি আর্ট গ্যালারি।
আর এ বিষয়ে শান্তিপুরের তিন চিত্রকর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহাসিক অধ্যাপক সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন সহযোগিতা করেছেন এই গ্যালারি প্রস্তুতে। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী প্রজন্মের কাছে এই গ্যালারির মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাদের স্মৃতি দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।