মলয় দে নদীয়া:- সচল পরিবার কে আরো সচ্ছল করে তুলতে, অর্থের পিছনে ইঁদুর দৌড়ে ছুটে চলেছে বর্তমান সমাজের প্রায় সকলেই। আর তার ফলেই সন্তানদের শৈশব চুরি যাচ্ছে, হতাশ একাকীত্ব থেকে জন্ম নিচ্ছে মোবাইল টিভির উপর আসক্তি। অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাদের। এ রকমই এক চরম উদাসীনতার নিদর্শন পাওয়া গেল নদীয়ার শান্তিপুরে।
পরশু দিন দুপুর থেকে শান্তিপুর বাগচি বাগানের হার্ডওয়ারের ব্যবসায়ী প্রবীর মিত্রর ষষ্ঠ এবং অষ্টম শ্রেণীতে পড়া দুই ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। এরকম ঘটনা অতীতে আরও দুবার ঘটায়, বাড়ির পাশে শান্তিপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানিয়ে রাখেন। এরপর রাত্রি নটা নাগাদ, প্রবীর মিত্রের মোবাইলে একটি ফোন আসে, তাদের দুই ছেলেকে ট্রেনের মধ্যে উদ্ধার করে এক পরিবার।
কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস ও করুণা বিশ্বাস তাদের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শান্তিপুরে রওনা দিয়েছিলেন নিকটাত্মীয় বিবাহ উপলক্ষে। ট্রেনের মধ্যে লক্ষ্য করেন দুটি বাচ্চার অস্বাভাবিক আচরণ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর খোঁজ পান তাদের বাবার মোবাইল নাম্বার, ফোন করে বলেন শান্তিপুর আরপিএফ অফিসে আসার জন্য। এরপর আরপিএফ এর মধ্যস্থতায় হারানো দুই ছেলেকে ফেরত পান ব্যবসায়ী প্রবীর মিত্র। ছেলেদের বারবার হারিয়ে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে প্রশ্ন করলে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন তার এবং তার স্ত্রীর ব্যবসায়ীক ব্যস্ততা। তবে আগামীতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে, ছেলেদের পেছনে সময় দেবেন বলে জানান আমাদের।