মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্তি ও যোগাদিবস ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামনে রেখে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে
মলয় দে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের গৌরবময় বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল কৃষ্ণনগরের ঐতিহাসিক রবীন্দ্রভবন। ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসভায় একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় ‘মায়ের নামে একটি বৃক্ষ রোপণ’ (এক পেড় মা কে নাম) অভিযানের ডাক দেওয়া হলো, তেমনই অন্যদিকে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব, বৈদিক রীতি এবং জাতীয় শিক্ষানীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে চলল গভীর মননশীল আলোচনা। রবীন্দ্রভবনের মঞ্চে এদিন যেন বসেছিল চাঁদের হাট।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং ভারত মাতার প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদান এবং প্রদীপ জ্বেলে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এরপরই মঞ্চ মুখরিত হয়ে ওঠে স্থানীয় শিল্পীদের চমৎকার নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে, যা সমগ্র প্রেক্ষাগৃহে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে।
সভার মূল আকর্ষণ ছিল বর্তমান ভারতের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতীয় জনতা পার্টির নদীয়া রানাঘাট লোকসভার মাননীয় সাংসদ জগন্নাথ সরকার মহাশয় তাঁর বক্তব্যে জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে সওয়াল করে বলেন :
”শ্রীমদভগবদ্গীতার মতো সার্বজনীন এবং কালজয়ী পুস্তক যা ভারতীয় দর্শন ও জীবনবোধের মূল ভিত্তি, তাকে আধুনিক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন প্রজন্মকে ভারতের সনাতন বৈদিক রীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে এই শিক্ষানীতি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে বলেও মন্তব্য করেন।”
সাংসদ মহাশয়ের এই বক্তব্যকে সমবেত বুদ্ধিজীবী মহল করতালি দিয়ে স্বাগত জানান এবং সভাকক্ষ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুণী মানুষদের সমাগম ঘটেছিল। রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে কৃষ্ণনগরের বিশিষ্ট আইনজীবী মহল, শিক্ষা মহল এবং প্রথম সারির সমাজসেবকগণ এই সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনার মানকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
মঞ্চে অনন্য ভূমিকায় ছিলেন-
নির্মল রায় মহাশয়: (কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সরকারি অনুদান বিহীন বিদ্যালয় পক্ষ), যিনি সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল ও সুচারুভাবে পরিচালনা করেন। এছাড়াও উপস্থিত
অর্জুন বিশ্বাস: (নদীয়া জেলা বিজেপি সভাপতি)
সৈকত সরকার: (জেলা সম্পাদক)
অন্যান্য নেতৃত্ব: উৎপল ঘোষ, প্রদীপ প্রামানিক, সুকমল চাকী, বাপি সিংহ রায় সহ আইনজীবী ও শিক্ষা মহলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে কেবল রাজনৈতিক বা শিক্ষামূলক বার্তাই নয়, বরং যোগাসনের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। উপস্থিত কার্যকর্তা ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হয়, প্রত্যেকে যেন মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে অন্তত একটি করে বৃক্ষ রোপণ করেন।
সামগ্রিকভাবে, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনের এই আয়োজন দীর্ঘকাল নদীয়া জেলার মানুষের মনে রেখাপাত করবে বলে করা হচ্ছে।
