সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে TET অনিশ্চয়তা নিষ্পত্তির জন্য অর্ডিন্যান্সের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নদীয়ার জেলাশাসকের নিকট ডেপুটেশন দিল ABRSM
নিউজ সোশ্যাল বার্তা:১৮ ই জুন, বৃহস্পতিবার :
TET সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিষ্পত্তির জন্য সংসদে অর্ডিন্যান্সের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে নদীয়া জেলার জেলাশাসকের অফিসে ডেপুটেশন দিল অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM) (বিদ্যালয় শিক্ষা) পশ্চিমবঙ্গ এর নদীয়া জেলা।
উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ যুগ্ম সম্পাদক শ্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, জেলা সভাপতি শ্রী ভাস্কর ঘোষ, জেলা সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার সেন সহ জেলা ও সার্কেল স্তরের প্রায় দুইশতাধিক কার্যকর্তা।সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচজনের একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেন ।
এই প্রসঙ্গে নদীয়ার জেলা সভাপতি শ্রী ভাস্কর ঘোষ বলেন যে, সুপ্রিম কোর্ট এর রায় অনুযায়ী ভারতবর্ষের প্রাথমিক (১ম থেকে ৫ম শ্রেণী) এবং উচ্চ প্রাথমিক (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী) স্তরে কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রশিক্ষিত যোগ্যতা মান অনুসারে TET পাশ করা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর সাম্প্রতিক রায় অনুসারে বর্তমানে চাকরিরত নন TET শিক্ষকদের জন্য TET পাশ করার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগস্ট, ২০২৮। এই আইনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হলো যদি কোনো কর্মরত শিক্ষক (যাঁদের ৫ বছরের বেশি চাকরি বাকি) TET পাশ করতে না পারেন, তবে তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসর (Compulsory Retirement) দেওয়া হতে পারে। শুধুমাত্র প্রবীণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, যাদের বয়স ৫৫ বছরের উর্ধ্বে অথবা যাঁদের অবসর নিতে ৫ বছরের কম সময় বাকি রয়েছে একমাত্র তাদের ক্ষেত্রে টেট পাশ করার নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
জেলা সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত সারা ভারতবর্ষ জুড়ে প্রায় কুড়ি লক্ষ এবং শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৯০ হাজার শিক্ষকের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকরা এখন চাকরি নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবেন।
জেলা সভাপতি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং আপাতত অর্ডিন্যান্স এনে ও পরবর্তীতে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

নদিয়া জেলার জেলা সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৩ সুপ্রিম কোর্টের প্রথম রায় ঘোষণা হবার পর আমরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং NCTE এর চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে বিষয়টির সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আলোকপাত করি।
১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সারা রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার ডিএম অফিসে ডেপুটেশন কর্মসূচির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২৩শে আগস্ট, ২০১০ ও ২৭শে জুলাই, ২০১১ সালের আগে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ২০০১ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী নিযুক্ত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম। ভারতবর্ষের আইনি ইতিহাসে যেদিন থেকে আইন পাশ হয় সেদিন থেকেই লাগু হবার নিয়ম আমরা দেখেছি, কিন্তু HRD মিনিস্ট্রির ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ এর নোটিফিকেশন অনুযায়ী যেভাবে পূর্বতন আইনে হওয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দিয়ে যোগ্যতাযান যাচাই করা হচ্ছে তা শিক্ষকদের এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
জেলা সম্পাদক আরো বলেন, আমরা আশা করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ পিটিশনের রায় শিক্ষকদের অনুকূলেই আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রায়টি প্রতিকূল হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সেই দিনই অখিল ভারতীয় সভাপতি নারায়ন লাল গুপ্তাজি সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবী তোলা হয়, আগামী বাদল অধিবেশনে এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিল উত্থাপন করে আইনের পরিবর্তন করা হোক।
