মলয় দে: কোনো দোকান নয় ! খেলার ক্লাবে পয়লা বৈশাখের হালখাতা, রয়েছে নবীন প্রবীণের মেলবন্ধন মিষ্টিমুখ খেলা বাঁচাতে নিজেদেরই কষ্ট অর্জিত অর্থের সামান্য সহযোগিতা। পয়লা বৈশাখে ব্যতিক্রমী হালখাতা, নদীয়ার শান্তিপুর সুত্রাগড় সিটি ক্লাবের ঐতিহ্য ৭০ বছরেরও বেশি
নদীয়া জেলার এক অনন্য নজির গড়ে তুলেছে সূত্রাগড় সিটি ক্লাব। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পয়লা বৈশাখে ‘হালখাতা’ আয়োজন করে আসছে এই ক্লাব, যা সাধারণত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেও এখানে তা নিয়েছে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের রূপ।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও পহেলা বৈশাখে ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল হালখাতা অনুষ্ঠান। নতুন খাতা খোলার মধ্য দিয়ে ক্লাবের আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করা হয়, যা ক্লাব পরিচালনা ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সদস্য ও অতিথিদের মিষ্টিমুখ করানো হয়, যা উৎসবের আবহকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
এই হালখাতা শুধু আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও উৎসাহ বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অনুষ্ঠানে ক্লাবের প্রাক্তন ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং বর্তমান খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাবের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
প্রায় ৪০০ সদস্য ও খেলোয়াড় নিয়ে গড়ে ওঠা এই ক্লাব ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবল কেরাম বোর্ড— চারটির ক্ষেত্রেই সক্রিয়। জেলা ও রাজ্যস্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ইতিমধ্যেই সাফল্যের ছাপ রেখেছে তারা। গত বছর ফুটবল লীগে রানার্সআপ হওয়াও ক্লাবের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এছাড়া, এই ক্লাবের একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় স্তরেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ক্লাবের সম্পাদক আলাউদ্দিন শেখ জানান, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই হালখাতা প্রথা চালু রয়েছে এবং এটি ক্লাবের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। সভাপতি ইনসান শেখও জানান, ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রেখে ক্লাবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অতিথি হিসেবে আশা অন্যান্য ক্লাবের প্রতিযোগিতা জানাচ্ছেন সংখ্যালঘু এই এলাকায় পহেলা বৈশাখের হালখাতা দেখে অনেকেই অবাক হন। তবে সরকারি অনুদান সেভাবে কিছু না মেলার কারণেই নিজেরাই কষ্ট অর্জিত অর্থের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এই দিনে। বহু প্রবীণ ফুটবলার ক্রিকেটার নবপ্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সাথে আলাপচারিতা করেন খেলাধুলার বিষয়। এতে এলাকার খেলাধুলার সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পায়।
সব মিলিয়ে, পহেলা বৈশাখে সিটি ক্লাবের হালখাতা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি এক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।
