মলয় দে: নদীয়ার শান্তিপুর রেলবাজারের শনি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন ৭৬ বছর বয়সী দেবু চক্রবর্তী—জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ গল্প।
প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি ট্রেনে ট্রেনে বই বিক্রি করতেন। এক হাতে প্রায় ৫ কেজি ওজন এবং পাশে ব্যাগে আরও ১৫ কেজি বই নিয়ে প্রতিদিন ঘুরে বেড়াতেন বিভিন্ন রুটে। সেই সময় বই ছিল তাঁর জীবিকার প্রধান ভরসা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পড়ার অভ্যাস বদলেছে। মোবাইল ও ল্যাপটপের দুনিয়ায় বইয়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পেশা বদলাতে হয়েছে তাঁকে।
বর্তমানে দেবু চক্রবর্তী ট্রেনে পাপড় বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রথমে ট্রেনে করে কালীনারায়নপুর যান, সেখান থেকে পাপড় কিনে এনে সেগুলি প্যাকেটজাত করে আবার ট্রেনে বিক্রি করেন। তবে শরীরের অবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিদিন হকারি করতে পারেন না; মাঝেমধ্যেই বন্ধ রাখতে হয় কাজ।
এখন তিনি দিনে মাত্র এক বেলাই ট্রেনে ওঠেন—একটি ট্রেনে গিয়ে পরের ট্রেনে ফিরে আসেন। এই সীমিত সময়ের মধ্যেই যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিন তাঁর উপার্জন হয় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
দেবু বাবুর পরিবারে আছেন তিনি এবং তাঁর স্ত্রী—দুজনেই প্রতিবন্ধী। রাজ্য সরকারের বার্ধক্য ভাতা এবং তাঁর স্ত্রীর প্রাপ্ত লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থই তাঁদের প্রধান ভরসা। এই সামান্য আয়ের মধ্য দিয়েই তিনি তাঁর মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর জামাই ঝাড়খণ্ডে একটি ম্যানেজার পদে কর্মরত।
বয়স ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন লড়াই করে চলেছেন দেবু চক্রবর্তী। তাঁর এই সংগ্রামী জীবন যেন সমাজের সামনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকে।
