নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া: বর্তমান ডিজিটাল লেনদেনের যুগেও গ্রাম ও মফস্বলের বাজারগুলোতে খুচরো পয়সা এবং ছোট নোট নিয়ে সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র দোকানদার এবং সাধারণ ক্রেতারা প্রতিদিন এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোথাও এক টাকার ছোট কয়েন নিতে অনীহা, আবার কোথাও ১০ বা ২০ টাকার জীর্ণ নোট নিয়ে শুরু হচ্ছে বচসা।
কয়েন বিভ্রাট: বাজারে ১ টাকার বিভিন্ন মাপের কয়েন প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ছোট মাপের এক টাকার কয়েনগুলো নিতে চাইছেন না অনেক বিক্রেতা এবং ক্রেতা। অনেকের মনে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই কয়েনগুলো হয়তো বাতিল হয়ে গেছে। যদিও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বারবার জানিয়েছে যে সরকারিভাবে কোনো কয়েন বাতিল করা হয়নি এবং সব ধরনের বৈধ কয়েন লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে।
জীর্ণ নোটের সমস্যা:
বাজারের ১০ ও ২০ টাকার নোটগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বেশিরভাগ নোটই ছেঁড়া, নোংরা বা টেপ দিয়ে জোড়া লাগানো। ফলস্বরূপ, কোনো পক্ষই এই নোট নিতে রাজি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে এই নোটগুলো দিলে মহাজনেরা তা নিতে অস্বীকার করেন, ফলে তাঁদের পক্ষে খুচরো নোট রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমস্যার প্রভাব:
এই সমস্যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কেনাকাটায়। অনেক সময় দুই-এক টাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। খুচরোর অভাবে অনেক দোকানে জিনিসের বদলে লজেন্স দেওয়ার পুরনো প্রথা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
প্রতিকারের পথ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাঙ্কিং সংস্থাগুলির সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সচেতনতা বৃদ্ধি: ছোট কয়েন যে বাতিল হয়নি, সে বিষয়ে হাট-বাজারে মাইকিং বা পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার চালানো প্রয়োজন।
ব্যাঙ্কের ভূমিকা: স্থানীয় ব্যাঙ্কগুলোতে সাধারণ মানুষের জীর্ণ নোট বদলানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে।
ডিজিটাল লেনদেন: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে UPI বা কিউআর (QR) কোডের ব্যবহার বাড়াতে পারলে খুচরো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
তবে যতক্ষণ না সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে, ততক্ষণ খুচরো পয়সা আর ছেঁড়া নোটের এই টানাপড়েন বাজারের চেনা ছবি হয়েই থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে কালিনগর পন্ডব মোড়ের ব্যবসায়ী স্বপন কুন্ডু জানান, খুচরো পয়সা নিয়ে সমস্যার সমাধান হবে কবে জানিনা। সামগ্রী বিক্রি করার পরে খুচরো অনেকই দিতে পারছেন না অথচ আমার কাছ থেকে অনেক সময় ফেরত দেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। এক অদ্ভুত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
