“মুকার বে ” ( ৬০৬৯ মিটার ) পর্বত শৃঙ্গ জয় করলো নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ম্যাকের সদস্যরা
দীপ রায়,নদীয়া: হিমাচল প্রদেশের পর্বত শৃঙ্গের ‘মুকার বে’ (৬০৬৯ মিটার) অভিযান করে এই পর্বত শৃঙ্গ জয় করলো নদীয়ার কৃষ্ণনগরের ম্যাকের সদস্যরা। সংগঠনের সদস্য দলনেতা ৬৫ বছর বয়সী এভারেস্ট জয়ী বসন্ত সিংহ রায় এর নেতৃত্বে সঙ্গে ছিলেন বিশ্বনাথ সাহা , পার্থসারথি লাইক এবং প্রশান্ত সিংহ। গত ২৩ শে জুন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চারজন পর্বত শৃঙ্গ আরোহন করেন।

জুনের ৬ তারিখে কৃষ্ণনগর থেকে হাওড়া তারপর নেতাজি এক্সপ্রেস ধরে চন্ডিগড় সেখান থেকে মানালি হয়ে হুন্ডার পর্যন্ত গাড়ি চলা শেষ করে দুইদিন পায়ে হেঁটে দলটি পৌঁছায় বিয়াস কুন্ডু অর্থাৎ বিপাশা নদীর উৎস স্থলে।
হিমাচল প্রদেশের মানালির পর সোলাং ভ্যালি পার করে এর যাত্রা শুরু।এই শৃঙ্গ আজ থেকে ৬৫ বছর আগে আরোহণ করে।এর পর আর সেই অর্থে অভিযান হয়নি।কারণ এই শৃঙ্গ আরোহণ করতে হলে আরও তিনটি পর্বত শৃঙ্গ আরোহন করতে হয়। প্রথমে শৃতিধর শৃঙ্গ, দ্বিতীয় লাদাকি শৃঙ্গ পরে মানালি শৃঙ্গ।এই তিনটি শৃঙ্গ আরোহণ এর পর আরোহণ করতে হয় মুকার বে। এই কঠিন, কষ্টকর, ট্যাকনিকাল,শৃঙ্গ গুলো সফল ভাবে আরোহণ করলো ম্যাকের সদস্যরা।

এই প্রসঙ্গে এই অভিযানের সদস্য নদীয়ার বামুনপুকুর হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা প্রশান্ত সিংহ জানান, ‘মুকার বে’ শৃঙ্গের দিকে এগিয়ে গেলে দেখা যায় প্রচণ্ড হিমবাহের ফাঁটল অর্থাৎ ক্রেভাস থাকায় এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য বরফ গলে গিয়ে পাথরের কর্নিস বেরিয়ে এই ৬০ বছরে তার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। তাই এক সঙ্গে তিনটি শৃঙ্গে বিদ্যালয়ের পতাকা তুলে ধরলে ও চতুর্থ শৃঙ্গে পতাকা তোলা এক রকম অধরা থেকে যায়।

মানালি শৃঙ্গ অভিযান করতে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় ২০০০ মিটার দড়ি লাগিয়ে দুদিকে খাড়া কর্নিস ধরে বরফের ঢাল বেয়ে এবং উপরের দিকে লুস পাথুরে অংশের মধ্যে দিয়ে রক ক্লাইমিং করে আরোহণ করতে হয়েছে।যা ঐ ভারী জুতোর তলায় লাগানো কাঁটার সাহায্য আরোহণ করা বেশ কষ্টকর। সেই সঙ্গে আবহাওয়া ছিল বেশ প্রতিকূল।সামিট ক্যাম্পে একটানা প্রায় ২৭ঘন্টা তাঁবুতে আটকে ছিলাম। এই পর্বত শৃঙ্গ জয় করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

প্রশান্ত সিংহ এর আগে এর আগে মাউন্ট কালানাগ, মাউন্ট চ্যাঙাব্যাঙ, কারাকোরাম এর সাসের কাঙরি- ৪, নেপালের মাউন্ট মানাসলু , হিমাচলের মাউন্ট রামজাক, অরুনাচল প্রদেশের গোরিচেন শৃঙ্গ, হিমাচলের কোয়ারং ২ সহ একাধিক শৃঙ্গ অভিযান করেন।
