মলয় দে: নদীয়ার শান্তিপুর শহরের একমাত্র চার্চে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নানা ধর্মীয় উপাচার, প্রার্থনা এবং যীশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে দিনটি পালন করেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই প্রভু যীশু খ্রিস্ট মানবজাতির পাপ মোচনের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। শান্তিপুরের চার্চের ফাদার জানান, যীশুর এই আত্মত্যাগই মানবজাতির পরিত্রাণের পথ সুগম করেছে। তিনি বলেন, “যীশু খ্রিস্ট নিজের জীবন বিসর্জন না দিলে আমরা কখনও পাপ থেকে মুক্তি পেতাম না। তাই এই দিনটি শোকের হলেও এর মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য ও কল্যাণের বার্তা।”
গুড ফ্রাইডের আগে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রায় ৪০ দিন উপবাস পালন করেন, যা ‘লেন্ট’ নামে পরিচিত। ক্যাথলিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই উপবাস পালন করা হয় এবং এই ক্যালেন্ডার নির্ধারিত হয় রোমের ভ্যাটিকান সিটির পোপের নির্দেশে। গুড ফ্রাইডের পরদিন সেই উপবাস ভঙ্গ করেন ভক্তরা।
এদিন চার্চে যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে ভক্তরা সেই ত্যাগের ইতিহাসকে উপলব্ধি করতে পারেন। প্রার্থনা, স্তবগান ও নীরবতা পালন করে দিনটি কাটান উপস্থিত সকলেই।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, শোকাবহ এই দিনকে কেন ‘গুড’ ফ্রাইডে বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে ‘গুড’ শব্দটি এখানে ‘পবিত্র’ বা ‘পুণ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, যীশুর আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য চরম কল্যাণ বয়ে এনেছে বলেই এই দিনটিকে ‘গুড’ বা শুভ ফ্রাইডে বলা হয়।
সব মিলিয়ে, শান্তিপুরে গুড ফ্রাইডে শুধু শোকের দিন নয়, বরং আত্মত্যাগ, প্রার্থনা ও মানবকল্যাণের এক গভীর বার্তা বহন করে।
