ইডেন থেকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ! দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ বৃক্ষ রোপনের নেশা কাঁথির শিক্ষক শ্যামল জানার

Social

মদন মাইতি,পূর্ব মেদিনীপুর: এ যেনো গাছের ফেরিওয়ালা। কাঁথির শিক্ষক শ্যামল জানা। কখনো ইডেন গার্ডেন্সের সামনে আবার কখনো ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সামনে।এদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সামনে তিনি ৭২১ তম বটবৃক্ষ রোপণ করলেন ।এমনকি তিনি সারা রাজ্যসহ ভিন রাজ্যেও পাড়ি জমিয়েছেন গাছ লাগানোর জন্য।

৫টি দেশ ও ৭ টি রাজ্যে বৃক্ষরোপনে অভিযান শুরু করেছিলেন কাঁথির শিক্ষক শ্যামল জানা।একদিকে তাঁর রয়েছে ফ্রী বাজার,এমনকি পশু পাখিদের জন্য “বাপের হোটেল”। করোনা থেকে আমফান সব সময় সাধারণ মানুষের কাছে বারে বারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের বেতনের বেশিরভাগ টাকায় তিনি খরচ করেন সমাজ সেবায়।

সঙ্গে ঝোলা চলল ভোলা। না একনো গল্প কথার ভোলা নয়। সত্যিকারের ভোলা। কাঁথির সমাজসেবী শিক্ষক শ্যামল জানা। সবুজের অভিযানে বারে বারে এগিয়ে এসেছেন। কাঁথি শহর সহ নিজের জেলা ছাড়িয়ে অন্য জেলা সহ ভিন রাজ্যেও বৃক্ষ রোপন করেছেন তিনি। । ভারতের ৫ টি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ভুটান বাংলাদেশ মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় বৃক্ষ রোপন করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতবর্ষের সাত বোন খ্যাত সাতটি রাজ্য আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ,মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরাতেও তিনি বৃক্ষরোপণ করবেন। তিনি যেন সমাজের কাছে সবুজের ফেরিওয়ালা।

সবুজের বার্তা দিতে তার হাতে সব সময় থাকে এক গ্রীন কার।যাতে থাকে বট বৃক্ষ। তিনি জেলার সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে লাগিয়েছেন বট বৃক্ষ। কলকাতার ইডেন গার্ডেনের পাশে তিনি লাগিয়ে ফেলেছেন বটবৃক্ষ।
শিক্ষক শ্যামল বাবু অসহায় মানুষের পাশে বারে বারে দাঁড়ান বিভিন্নভাবে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অবলা প্রাণী থেকে সাধারণ মানুষদেরও। তিনি বানিয়েছেন বাপের হোটেল থেকে ফ্রি বাজার। জীবনের স্বপ্ন ও ৫ হাজার বটবৃক্ষ রোপন করবেন। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তেইশটি জেলায় বটবৃক্ষরোপণ করেছেন তিনি। পরবর্তী লক্ষ ভারত বর্ষের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃত অঞ্চল সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমূহে বটবৃক্ষ রোপণ করা। মোট ৩০ টি বট বৃক্ষরোপণ করে জল সংরক্ষণ, শান্তির বার্তা, ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও ভারতবর্ষের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্যালুট জানানোর জন্য তিনি বারে বারে সবুজের অভিযানে বেরিয়ে পড়েন। শিক্ষক হিসেবে গরমের ছুটি কে কাজে লাগিয়ে তিনি বৃক্ষ রোপণে বেরিয়েছেন। শ্যামল বাবুর মত আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে সমাজের জন্য দেশের জন্য দশের জন্য। গাছ লাগান প্রাণ বাঁচান। এই অমোঘ সত্যি কথাটি যেদিন আমরা বুঝতে পারব সেদিন কতটা দেরি হবে তা সময় বলবে।

 

কাঁথির কাছে কুলাই পদিমা জুনিয়র বেসিক স্কুল। সেখানেই পড়ান শ্যামলবাবু। থাকেনও পূর্ব মেদিনীপুরেই। কিন্তু তাঁর পরিচয় এখন শুধু স্কুল বা বাড়ির গন্ডিতে আটতে নেই। পরিবেশকর্মী হিসেবে তাঁর নাম এখন পরিচিত রাজ্যের বাইরেও।

Leave a Reply