মূল্যবৃদ্ধির কষাঘাত কাটিয়ে ঐতিহ্য রক্ষায় মরিয়া রানাঘাট ও পার্শ্ববর্তী বাস ডিপোগুলি
মলয় দে: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই পরিবহণ জগতের সবচেয়ে বড় উৎসব। নতুন রঙের প্রলেপ, আলো দিয়ে সাজানো ডিপো আর বাসের যন্ত্রাংশের পুজোর আবহ ছড়িয়ে পড়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে। তবে এ বছর উৎসবের আমেজের মাঝেই বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। ডিজেল, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ স্পেয়ার পার্টস, টায়ার ও রঙের দাম চড়চড়ে বাড়ায় বাজেট কাটছাঁট করেই ঐতিহ্য বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন রানাঘাট সরকারি ও বেসরকারি বাস ডিপোসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন ডিপোর বাস মালিক ও চালক-কর্মীরা।
ডিজেল ও যন্ত্রাংশের আকাশছোঁয়া দাম
দীর্ঘদিন ধরে বাস ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও ডিজেলের দাম থেকে শুরু করে বাস মেরামতের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। রানাঘাট বেসরকারি বাস চালক ও কর্মী সংগঠনের সূত্রে খবর, একটি বাসের চাকা পাল্টানো বা ইঞ্জিনের কাজের খরচ আগের তুলনায় ৩০-৪০% বেড়েছে। ফলে বিশ্বকর্মা পুজোর আগে প্রতি বছর যেভাবে ধুমধাম করে সাজসজ্জা বা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হতো, এবার তার জাঁকজমক অনেকটাই কমাতে হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি ডিপোর ছবি
রানাঘাট সরকারি বাস ডিপো সরকারি বাজেটের আওতায় বাসগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এখানে প্রতি বছরের মতোই নিয়মরক্ষা করে পুজো হচ্ছে, তবে বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব স্পষ্ট।
রানাঘাট-কৃষ্ণনগর, রানাঘাট-বনগাঁ বা কলকাতা রুটের বাস চালক ও কন্ডাক্টররা নিজেরা চাঁদা তুলে পুজোর আয়োজন করছেন। কিন্তু বাজারদরের ধাক্কায় সাউন্ড সিস্টেম, ডেকোরেটর এবং প্রতিমার বাজেটে কাটছাঁট করতে হয়েছে।
ভোজ ও আয়োজনে বাজেট কাটছাঁট
বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে বাসের স্টাফ ও যাত্রীদের জন্য যে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়, এ বছর চাল-ডাল ও আনাজের দাম বাড়তি থাকায় সেই প্যান্ডেলের খাবারেও কাটছাঁট হচ্ছে। অনেক ছোট ডিপো বা ছোট রুটে জমকালো প্যান্ডেলের বদলে সাধারণ প্যান্ডেল করেই পুজোর কাজ মেটানো হচ্ছে।
