মলয় দে: নদীয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের অন্তর্গত বাহাদুরপুর গ্রামে স্থানীয় শ্রমজীবী চাষীদের নিয়ে স্বনির্ভর ও টেকসই জৈব কৃষি বিষয়ক একটি বিশেষ আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজুর সমিতির “চাষবাস বারো মাসের” গঠনমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মূল রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সমিতির রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি উত্তম গায়েন।
এই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ খেটে খাওয়া পরিবারগুলোকে বাজারের আগ্রাসী অর্থনীতি থেকে রক্ষা করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পুষ্টির দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তোলা। আলোচনা সভায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষির ওপর জোর দিয়ে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী বর্ষার মরশুমে চাষীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে দেশী ধান চাষ করবেন। এই সনাতন পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো, চাষীরা যাতে নিজেরাই ধানের বীজ সংরক্ষণ করতে পারেন এবং বাজারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পরবর্তী মরশুমে পুনরায় চাষ সম্পন্ন করতে পারেন।
পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাড়ির অল্প জায়গাতেই রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত উপায়ে ‘জৈব-পুষ্টি বাগান’ গড়ে তোলা হবে। এখানে উৎপাদিত শাকসবজি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পুষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করবে।
আয়ের বিকল্প উৎস হিসেবে চাষীদের মাশরুম চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা একই সাথে পুষ্টির যোগান দেবে এবং বাজারে বিক্রি করে দৈনন্দিন হাতখরচ চালানো সম্ভব হবে।
কৃষি চক্রের সাথে পশুপালনকে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত করে প্রতিটি পরিবারে অন্তত ১০টি করে মুরগি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুরগির বর্জ্য একদিকে যেমন জৈব চাষের চমৎকার সার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, অন্যদিকে ডিম ও মাংস পরিবারের আমিষ পুষ্টি নিশ্চিত করে উদ্বৃত্ত অংশ বিক্রির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বচ্ছলতা আনবে। উৎপাদিত সামগ্রীর সঠিক বিপণন ও ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সমিতি সর্বদা পাশে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শান্তিপুরের নবনির্বাচিত বিধায়কের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই স্মারকলিপিতে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পাশাপাশি স্থানীয় রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরা হবে, যাতে জনপ্রতিনিধিরা বছরজুড়ে জনগণের সাথে সরাসরি সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ বজায় রাখেন।
