মলয় দে: নদীয়ার শান্তিপুরে শতাব্দী প্রাচীন গাজন উৎসবের অনন্য ঐতিহ্য আজও অটুট। বাংলাদেশের পূর্ববঙ্গ থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে এই গাজনের প্রচলন এদেশে আসে। যদিও মূলত গাজন পাড়া ভিত্তিক উৎসব হিসেবে পরিচিত, শান্তিপুরের ঘোষপাড়া এলাকায় এই গাজন পালিত হয় একেবারে গৃহস্থ বাড়ির উদ্যোগে, যা এই উৎসবকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।
জানা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর আগে পূর্ববঙ্গে এই গাজনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে শান্তিপুরে এই পূজোর প্রচলন করেন সুরেন ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি আর জীবিত না থাকলেও তাঁর উদ্যোগেই ঘোষপাড়ায় স্থাপিত হয় মন্দির, যেখানে আজও নিয়মিত পুজো হয়। সারা বছর ‘পাটা’ ওই মন্দিরেই সংরক্ষিত থাকে এবং নিত্যপুজোও সেখানেই সম্পন্ন হয়।
চৈত্র মাসের শেষ লগ্নে শুরু হয় এই গাজনের প্রধান আচার। চড়ককে কেন্দ্র করে সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর মোট ১৯ জন সন্ন্যাসী এই আচার পালনে অংশগ্রহণ করেছেন। গাজনের তিনটি প্রধান দিন—ফলপুজো, নীলপুজো এবং চড়ক উৎসব—এই সময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফলপুজোর দিন মন্দির থেকে ঠাকুরকে আনা হয় চৌধুরী বাড়িতে, যেখানে পরিবারের সদস্যরা পূজোর সমস্ত আয়োজন করেন। এরপর নীল ষষ্ঠীর পুজো এবং চড়ক উৎসবের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। উৎসব শেষে শহর পরিক্রমা করে ঠাকুরকে পুনরায় মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই গাজন শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
